শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
মজার সাথে শিক্ষা - ক্লাস ৩

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: শক্তির রহস্য কী?

আশরাফ উল আসাদ • 10 সেপ্টেম্বর 2026, 09:56 সকাল • 120 বার পঠিত
তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: শক্তির রহস্য কী?

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প ৫: শক্তি


অধ্যায় ১: শক্তির রহস্য কী?


লেখক: আশরাফ উল আসাদ


সকালের মিষ্টি রোদে স্কুলের মাঠটা যেন আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছিল।

নুসরাত জাহান, আনিশা মারজান, মেফতাহুল জান্নাত, আবাবিল আল আলিফ, সাফুয়ান, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আবু তালহা ও মরিয়ম আক্তার সবাই মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

কেউ দৌড়াচ্ছিল, কেউ বল খেলছিল, কেউ আবার একে অন্যকে ধরার চেষ্টা করছিল।

মেফতাহুল তখন এমন জোরে দৌড়াচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল সে যেন দৌড় প্রতিযোগিতায় বিশ্বরেকর্ড করতে যাচ্ছে।

হঠাৎ সে থেমে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “আমি আর পারছি না!”

সাফুয়ান হেসে বলল, “কী হলো? তোমার রকেটের জ্বালানি শেষ?”

মেফতাহুল পেটের ওপর হাত রেখে বলল, “মনে হচ্ছে আমার ভেতরের ব্যাটারি একেবারে শেষ!”

সবাই হেসে উঠল।

ঠিক তখনই ফারজানা মরিয়ম ম্যাডাম মাঠে এসে দাঁড়ালেন।

তিনি বললেন, “মেফতাহুলের কথাটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

মেফতাহুল অবাক হয়ে বলল, “আমি তো মজা করছিলাম, ম্যাডাম!”

ম্যাডাম বললেন, “মজার কথার মধ্যেও কখনো কখনো বিজ্ঞানের বড় প্রশ্ন লুকিয়ে থাকে।”

নুসরাত জিজ্ঞেস করল, “কোন প্রশ্ন, ম্যাডাম?”

ম্যাডাম হাসলেন।

“তোমরা দৌড়ালে কেন?”

“খেলতে,” বলল সবাই।

“আর দৌড়ানোর পর ক্লান্ত হলে কেন?”

কেউ সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে পারল না।

ম্যাডাম বললেন, “কারণ কাজ করার জন্য আমাদের শক্তি দরকার।”


শক্তি কোথায়?


সবাই শ্রেণিকক্ষে ফিরে এল।

ফারজানা মরিয়ম ম্যাডাম বোর্ডে বড় করে লিখলেন—

শক্তি

তার নিচে লিখলেন—

“শক্তি হলো কোনো কাজ করার সামর্থ্য।”

আনিশা হাত তুলল।

“ম্যাডাম, কাজ বলতে কি শুধু দৌড়ানো বা খেলাধুলা বোঝায়?”

“না,” বললেন ম্যাডাম।

“পড়াশোনা করা, হাঁটা, দৌড়ানো, বই তোলা, লেখা, খেলা—সবকিছু করতেই শক্তির প্রয়োজন হয়।”

আবু তালহা বলল, “তাহলে আমি পেন্সিল দিয়ে লিখলেও শক্তি ব্যবহার করছি?”

“অবশ্যই।”

মরিয়ম বলল, “আমি ব্যাগ তুললেও শক্তি ব্যবহার করছি?”

“হ্যাঁ।”

মেফতাহুল বলল, “আর আমি টিফিন খাওয়ার সময়?”

ম্যাডাম বললেন, “টিফিন খাওয়ার সময় তুমি খাবার থেকে শক্তি পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছ!”

মেফতাহুল বলল, “তাহলে টিফিনও বিজ্ঞান?”

ম্যাডাম হেসে বললেন, “টিফিনের ভেতরেও বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে।”


একটি ছোট পরীক্ষা


ম্যাডাম টেবিলের ওপর একটি বই রাখলেন।

“এই বইটি কি নিজে নিজে টেবিলের এক পাশ থেকে অন্য পাশে চলে যেতে পারবে?”

সবাই বলল, “না!”

ম্যাডাম বললেন, “তাহলে কে এটিকে সরাবে?”

আসাদুল্লাহ বইটি হাতে নিয়ে অন্য পাশে রেখে দিল।

ম্যাডাম বললেন, “আসাদুল্লাহ বইটি সরানোর জন্য কী ব্যবহার করল?”

সে বলল, “আমার শক্তি।”

“ঠিক।”

“শক্তি আমাদের কোনো বস্তুকে সরাতে বা কাজ করতে সাহায্য করে।”


এবার বলটি সরাও


ম্যাডাম একটি ফুটবল বের করলেন।

বলটি মেঝেতে রেখে বললেন, “কেউ বলটিকে না ছুঁয়ে সরাতে পারবে?”

সবাই একে অন্যের দিকে তাকাল।

মেফতাহুল বলল, “আমি পারব!”

সে বলের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।

বল নড়ল না।

সবাই হেসে উঠল।

ম্যাডাম বললেন, “শুধু ইচ্ছা করলেই হবে না। কাজ করার জন্য শক্তি দরকার।”

সাফুয়ান বলটিতে হালকা লাথি দিল।

বলটি গড়িয়ে গেল।

ম্যাডাম বললেন, “দেখলে? শক্তি প্রয়োগ করলে বলটি নড়ল।”


কে বেশি শক্তিশালী?


মেফতাহুল এবার বলল, “ম্যাডাম, তাহলে যার শক্তি বেশি সে সব কাজ ভালো করতে পারে?”

ম্যাডাম বললেন, “সব সময় এমন নয়।”

“শক্তি শুধু শরীরের জোর নয়। বিভিন্ন ধরনের শক্তি রয়েছে এবং বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন শক্তির প্রয়োজন হয়।”

নুসরাত বলল, “যেমন?”

ম্যাডাম বললেন, “আজ আমরা প্রথমে শক্তির ধারণাটি বুঝব। তারপর ধীরে ধীরে শক্তির বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে জানব।”


মানুষের শক্তি কোথা থেকে আসে?


ম্যাডাম একটি কলা হাতে নিলেন।

“এটি কী?”

মরিয়ম বলল, “কলা।”

“তোমরা এটি খেলে কী পাও?”

আনিশা বলল, “খাবার।”

ম্যাডাম বললেন, “খাবার আমাদের শরীরকে শক্তি দেয়।”

আসাদুল্লাহ বলল, “তাহলে আমরা খাবার খেয়ে দৌড়াতে পারি?”

“হ্যাঁ।”

“খেলতে পারি?”

“হ্যাঁ।”

“পড়তে পারি?”

“অবশ্যই।”

মেফতাহুল বলল, “তাহলে আমার টিফিন হলো আমার শরীরের পাওয়ার ব্যাংক!”

ম্যাডাম বললেন, “তোমার ভাষায় বললে কথাটা বেশ মজার!”

সবাই আবার হেসে উঠল।


সূর্যের শক্তি


ম্যাডাম জানালার বাইরে তাকালেন।

“ওই যে সূর্য!”

সবাই জানালার দিকে তাকাল।

“সূর্য আমাদের কী দেয়?”

নুসরাত বলল, “আলো।”

আনিশা বলল, “তাপও দেয়।”

“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।

“সূর্য আলো ও তাপের একটি বিশাল উৎস।”

“সূর্যের আলো না থাকলে দিনের বেলায় আমাদের চারপাশ দেখা কঠিন হয়ে যেত।”

“সূর্যের তাপ না থাকলে পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যেত।”


আলো না থাকলে কী হতো?


ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষের পর্দা কিছুটা টেনে দিলেন।

ঘরটি কিছুটা অন্ধকার হয়ে গেল।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এখন তোমরা বইয়ের লেখা সহজে দেখতে পারছ?”

সবাই বলল, “না।”

তিনি একটি টর্চ জ্বালালেন।

সঙ্গে সঙ্গে বইয়ের ওপর আলো পড়ল।

মরিয়ম বলল, “এখন তো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে!”

ম্যাডাম বললেন, “এটাই আলোক শক্তির একটি ব্যবহার।”

“আলোর সাহায্যে আমরা চারপাশের জিনিস দেখতে পারি।”


বিদ্যুতের রহস্য


ম্যাডাম এবার শ্রেণিকক্ষের ফ্যানের দিকে তাকালেন।

“ফ্যান কীভাবে ঘোরে?”

আবু তালহা বলল, “বিদ্যুতের সাহায্যে।”

“ঠিক।”

“বিদ্যুৎ শক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

“ফ্যান চালানো, আলো জ্বালানো, টেলিভিশন চালানো, ফ্রিজ ও কম্পিউটার ব্যবহার—এসব কাজে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহৃত হয়।”


মেফতাহুল বলল, “ম্যাডাম, বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যানও থেমে যায়!”

“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।

“তখন বুঝতে পারো, কোনো কাজ করার জন্য শক্তির প্রয়োজন।”


তাপের শক্তি


ম্যাডাম এবার একটি কাপের দিকে ইঙ্গিত করলেন।

“গরম দুধ বা গরম খাবার কীভাবে তৈরি হয়?”

সাফুয়ান বলল, “তাপের সাহায্যে।”

ম্যাডাম বললেন, “তাপ শক্তি আমাদের শরীরকে উষ্ণ রাখতে এবং জিনিস গরম করতে সাহায্য করে।”

“সূর্য তাপের একটি বড় উৎস।”

“আগুন থেকেও তাপ পাওয়া যায়। কাঠ, গ্যাস বা কয়লা পুড়িয়ে তাপ পাওয়া যায়, যা রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়।”


শব্দের অদৃশ্য শক্তি


হঠাৎ বাইরে স্কুলের ঘণ্টা বেজে উঠল।

টং!

সবাই চমকে উঠল।

ম্যাডাম বললেন, “এখন আমরা কোন শক্তির উপস্থিতি অনুভব করছি?”

আবাবিল বলল, “শব্দ!”

“ঠিক।”

“কথা বলা, গান, পাখির ডাক, ঘণ্টা বা গাড়ির হর্ন—এসব থেকে আমরা শব্দ শুনতে পাই।”

মেফতাহুল বলল, “আমার বন্ধু যখন খুব জোরে চিৎকার করে, তখনও শব্দ হয়!”

ম্যাডাম বললেন, “হয়, তবে খুব জোরে শব্দ করা আমাদের কানে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে।”


চার শক্তির চার দরজা


ম্যাডাম বোর্ডে চারটি বৃত্ত আঁকলেন।

প্রথমটিতে লিখলেন—

আলোক শক্তি

দ্বিতীয়টিতে—

বিদ্যুৎ শক্তি

তৃতীয়টিতে—

তাপ শক্তি

চতুর্থটিতে—

শব্দ শক্তি

তিনি বললেন, “আজ তোমরা শক্তির চারটি রূপের সঙ্গে পরিচিত হলে।”

নুসরাত বলল, “আলো আমাদের দেখতে সাহায্য করে।”

আনিশা বলল, “বিদ্যুৎ অনেক যন্ত্র চালায়।”

সাফুয়ান বলল, “তাপ জিনিস গরম করে।”

মরিয়ম বলল, “শব্দ আমাদের শোনার অনুভূতি তৈরি করে।”

ম্যাডাম বললেন, “চমৎকার!”


শক্তি ছাড়া একদিন?


ম্যাডাম হঠাৎ বললেন, “এবার কল্পনা করো—একদিন পৃথিবীতে কোনো শক্তি নেই।”

সবাই অবাক।

মেফতাহুল বলল, “তাহলে আমি খেলতে পারব না!”

আসাদুল্লাহ বলল, “ফ্যান চলবে না।”

আনিশা বলল, “বাতি জ্বলবে না।”

নুসরাত বলল, “গাড়ি চলবে না।”

আবু তালহা বলল, “রান্নাও কঠিন হয়ে যাবে।”

ম্যাডাম বললেন, “ঠিক।”

“তাই আমাদের জীবনযাত্রায় শক্তির গুরুত্ব অনেক।”


শক্তির অপচয় নয়


ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষের একটি বাতি বন্ধ করে দিলেন।

“যখন কোনো ঘরে কেউ নেই, তখন বাতি জ্বালিয়ে রাখার কি দরকার?”

সবাই বলল, “না।”

“ফ্যানের?”

“না।”

ম্যাডাম বললেন, “তাই আমাদের শক্তির অপচয় করা উচিত নয়।”

“প্রয়োজন না হলে বাতি, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করে রাখা উচিত।”


দিনের শেষ রহস্য


ক্লাস শেষ হওয়ার আগে ম্যাডাম আবার বোর্ডের দিকে তাকালেন।

তিনি লিখলেন—

শক্তি = কাজ করার সামর্থ্য

তার নিচে লিখলেন—

সূর্য → আলো + তাপ

খাবার → শরীরের শক্তি

বিদ্যুৎ → নানা যন্ত্রের কাজ

জ্বালানি → তাপ ও চলার শক্তির উৎস

সবাই মনোযোগ দিয়ে দেখল।

তারপর ম্যাডাম বললেন, “আজ আমরা জানলাম শক্তি কী।”

“কিন্তু তোমরা কি জানো, আলো কোথা থেকে আসে?”

নুসরাত বলল, “সূর্য থেকে।”

“শুধু সূর্য থেকেই?”

সবাই একটু থেমে গেল।

ম্যাডাম টেবিলের ওপর একটি ছোট টর্চ রাখলেন।

“এই টর্চের আলো কোথা থেকে আসে?”

আনিশা বলল, “টর্চের ভেতরের ব্যাটারি থেকে!”

ম্যাডাম মুচকি হাসলেন।

“তাহলে ব্যাটারির ভেতরে কী আছে?”

কেউ উত্তর দিতে পারল না।

ম্যাডাম টর্চটি হাতে তুলে বললেন, “পরের অভিযানে আমরা খুঁজে বের করব—শক্তি কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কাজে লাগে এবং আলোক শক্তির রহস্য কোথায় লুকিয়ে আছে।”


মেফতাহুল বলল, “আমি কাল টর্চ নিয়ে আসব!”

ম্যাডাম বললেন, “নিয়ে এসো। তবে টর্চ খুলে ফেলবে না!”

মেফতাহুল একটু চুপ করে বলল, “ঠিক আছে… চেষ্টা করব!”

সবাই হেসে উঠল।


শ্রেণিকক্ষের আলো নিভে গেল।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের মাথায় তখন নতুন এক আলো জ্বলে উঠেছে—শক্তিকে জানার আলো।


চলবে...


📝 অধ্যায় ১: MCQ


১. শক্তি কী?

ক) কোনো কাজ করার সামর্থ্য

খ) একটি খেলনা

গ) একটি শব্দ

ঘ) একটি রং


২. আমরা দৌড়ানোর জন্য কী ব্যবহার করি?

ক) শক্তি

খ) পানি

গ) আলো

ঘ) শব্দ


৩. সূর্য থেকে আমরা কোন দুটি শক্তি পাই?

ক) আলো ও তাপ

খ) শব্দ ও বিদ্যুৎ

গ) শব্দ ও আলো

ঘ) বিদ্যুৎ ও শব্দ


৪. ফ্যান চালাতে সাধারণত কোন শক্তি ব্যবহার করা হয়?

ক) আলোক শক্তি

খ) বিদ্যুৎ শক্তি

গ) শব্দ শক্তি

ঘ) তাপ শক্তি


৫. রান্নার কাজে কোন শক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

ক) তাপ শক্তি

খ) শব্দ শক্তি

গ) আলোক শক্তি

ঘ) চাঁদের আলো


৬. নিচের কোনটি আলোক শক্তির উৎস?

ক) সূর্য

খ) পাথর

গ) পানি

ঘ) মাটি


৭. খাবার আমাদের কী দেয়?

ক) শরীরের কাজ করার শক্তি

খ) শুধু আলো

গ) শুধু শব্দ

ঘ) শুধু পানি


৮. নিচের কোনটি শব্দের উৎস হতে পারে?

ক) পাখির ডাক

খ) বরফ

গ) পাথর

ঘ) বই


৯. প্রয়োজন না হলে বৈদ্যুতিক বাতি ও ফ্যান কী করা উচিত?

ক) চালু রাখা

খ) বন্ধ করে রাখা

গ) আরও বেশি চালানো

ঘ) ভেঙে ফেলা


১০. শক্তি ছাড়া আমরা কী করতে পারব?

ক) কোনো কাজ করতে অসুবিধা হবে

খ) সব কাজ আরও সহজ হবে

গ) সব যন্ত্র নিজে নিজে চলবে

ঘ) কিছুই পরিবর্তন হবে না


উত্তরমালা:

১. ক | ২. ক | ৩. ক | ৪. খ | ৫. ক | ৬. ক | ৭. ক | ৮. ক | ৯. খ | ১০. ক

#শিক্ষা