এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪২২৯০৫: শিক্ষামন্ত্রী বললেন এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার সচিবালয়ে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন। আর দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। তাদের মোট সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।
মোট অকৃতকার্য ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জনের মধ্যে এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
“এই ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জনকে, আমরা যেটা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ, তাদের পরীক্ষা উইদিন এ মান্থ অর সো আমরা নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বৎসর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের নেক্সট প্রোগ্রাম,” বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
সাত দিনের মধ্যেই ওই পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি বোর্ডগুলোর থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময় দিতে এক মাস নেওয়ার কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী।
“আজকে যিনি ফেল করেছেন, তাকে যদি সাত দিনে বা পনেরো দিনে পরীক্ষা নিতে দেওয়া হয়, তাহলে তার প্রস্তুতির ঘাটতি থাকবে।”
আবার বেশি সময় দিলে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ হারানোর শঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অপরদিকে আমাদের অ্যাডমিশন পিছিয়ে যাবে। সেজন্য আমরা একটা সুবিধাজনক সময় ঠিক করে নেব, যে কত দিনের মধ্যে নিলে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে পারবে।
“এক মাসের বেশি দেওয়াটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। যদিও অনেকেই দুই বিষয়ে পরীক্ষা দেবেন।”
১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করে চলতি বছরের এসএসসি থেকে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সব খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছে সরকার।
ওই পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্নের পর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসায় প্রথমবার খাতা মূল্যায়নের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীও বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন।
এবার পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১ থেকে ৭ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী মিলন।
এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষায় ফলাফলে অনেক পরিবর্তন আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য এসেছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫ হাজার জন ফেল থেকে পাস করেছে। আর ৩ হাজার ৭৯ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
এই পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “তো এতে করে আমাদের এক্সামিনের সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করব, এক্সামিনারদের ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং ভ্যারিয়েশন যারা বেশি দিয়েছে তাদের জন্য পানিশমেন্টের ব্যবস্থা—সেগুলোরও কাজ চলছে।”