তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: ভিটামিন ও খনিজের জাদু
তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প ৩: সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য
অধ্যায় ৬: ভিটামিন ও খনিজের জাদু
লেখক: আশরাফ উল আসাদ
সেদিন সকালে বিজ্ঞান ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই নুসরাত জাহান, আনিশা মারজান, মেফতাহুল জান্নাত, আবাবিল আল আলিফ, সাফুয়ান, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আবু তালহা ও মরিয়ম আক্তার নিজেদের মধ্যে গল্প করছিল। নুসরাত বলছিল, “আমার মা সব সময় বলেন, বেশি করে শাকসবজি আর ফল খেতে।” আনিশা বলল, “আমার মা-ও বলেন, শুধু ভাত আর মাছ খেলেই হবে না।” মেফতাহুল বলল, “আমাকে তো প্রতিদিনই বলা হয়, রঙিন সবজি খেতে!” সে একটু থেমে বলল, “কিন্তু আমি জানতে চাই, এত শাকসবজি আর ফল খাওয়ার আসল কারণটা কী?”
ঠিক তখনই ফারজানা মরিয়ম ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি ঝুড়ি। ঝুড়ির ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছিল গাজর, টমেটো, পালংশাক, লালশাক, কমলা, পেয়ারা ও কলা। শিক্ষার্থীদের চোখ চকচক করে উঠল।
ম্যাডাম বললেন, “আজ তোমাদের প্রশ্নের উত্তর এই ঝুড়ির ভেতরেই লুকিয়ে আছে।”
মেফতাহুল বলল, “ম্যাডাম, আবার রহস্য!”
“হ্যাঁ,” বললেন ফারজানা মরিয়ম। “আজ আমরা খুঁজে বের করব ভিটামিন ও খনিজ লবণের রহস্য।”
শরীরের ছোট্ট বন্ধু
ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে লিখলেন—ভিটামিন ও খনিজ লবণ।
তিনি বললেন, “আমরা আগের অধ্যায়ে শিখেছি শর্করা শরীরকে শক্তি দিতে সাহায্য করে, আমিষ শরীরের গঠন ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে এবং চর্বি শক্তি জোগাতে ও শক্তি সঞ্চয়ে সাহায্য করে। কিন্তু শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য আরও কিছু পুষ্টি উপাদান দরকার।”
আবাবিল বলল, “সেগুলোই ভিটামিন ও খনিজ লবণ?”
“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম। “এগুলো শরীরের জন্য খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সাফুয়ান বলল, “অল্প লাগে, কিন্তু কাজ অনেক?”
“একদম ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।
ফলের ঝুড়ির রহস্য
ম্যাডাম ঝুড়ি থেকে একটি কমলা বের করলেন।
“এটি কী?”
“কমলা!” সবাই বলল।
“কমলা কেন খাও?”
মরিয়ম বলল, “স্বাদ ভালো।”
মেফতাহুল বলল, “রসালো!”
ম্যাডাম হেসে বললেন, “সেগুলো ঠিক। কিন্তু ফল আমাদের বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণসহ নানা উপকারী পুষ্টি উপাদান দিতে পারে।”
এরপর তিনি পেয়ারা, কলা ও টমেটো দেখালেন।
তিনি বললেন, “বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি থেকে আমরা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা ভিটামিন ও খনিজ লবণ পেতে পারি।”
নুসরাত বলল, “তাহলে ফল শুধু মিষ্টি খাবার নয়, পুষ্টিকর খাবারও।”
“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।
শাকসবজির শক্তি
ফারজানা মরিয়ম এবার পালংশাক ও লালশাক হাতে নিলেন।
“তোমরা শাক খেতে পছন্দ করো?”
আনিশা বলল, “আমি পালংশাক পছন্দ করি।”
সাফুয়ান বলল, “আমি লালশাক।”
মেফতাহুল একটু মুখ বাঁকিয়ে বলল, “আমি শাক দেখলে আগে পালানোর রাস্তা খুঁজি!”
সবাই হেসে উঠল।
ম্যাডাম বললেন, “শাকসবজিতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণসহ অনেক উপকারী উপাদান থাকে। তাই খাবারের তালিকায় শাকসবজি রাখা গুরুত্বপূর্ণ।”
মেফতাহুল বলল, “তাহলে শাক আমার শত্রু নয়?”
“না,” বললেন ম্যাডাম। “বরং পরিমাণমতো ও বৈচিত্র্য রেখে খেলে শাক তোমার স্বাস্থ্যের বন্ধু হতে পারে।”
ভিটামিন কী করে?
ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে একটি মানুষের ছবি আঁকলেন। চোখ, ত্বক, হাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করলেন।
তিনি বললেন, “ভিটামিন শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
নুসরাত জিজ্ঞেস করল, “ভিটামিন কি আমাদের শক্তি দেয়?”
ম্যাডাম বললেন, “ভিটামিনের প্রধান কাজকে শুধু শক্তি দেওয়া হিসেবে মনে করবে না। এগুলো শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কাজ ঠিকভাবে চলতে সাহায্য করে এবং সুস্থ থাকতে গুরুত্বপূর্ণ।”
আসাদুল্লাহ বলল, “অর্থাৎ ভিটামিন শরীরের কাজগুলো ঠিকভাবে চলতে সাহায্য করে।”
“হ্যাঁ,” বললেন ম্যাডাম।
রোগ প্রতিরোধের ঢাল
ম্যাডাম এবার একটি ঢালের ছবি আঁকলেন।
তিনি বললেন, “আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। ভিটামিন ও খনিজ লবণ শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
আবু তালহা বলল, “তাহলে এগুলো শরীরের ঢালের মতো?”
“উদাহরণ হিসেবে এভাবে ভাবতে পারো,” বললেন ম্যাডাম। “তবে মনে রাখবে, শুধু ভিটামিন খেলেই সব রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।”
রাতকানার রহস্য
হঠাৎ ম্যাডাম আলো একটু কমিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, “এখন তোমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলব।”
সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগল।
“কিছু ভিটামিনের অভাবে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতির সঙ্গে রাতকানা রোগের সম্পর্ক আছে।”
মেফতাহুল বলল, “রাতে কানা মানে কি রাতে চোখ বন্ধ হয়ে যায়?”
ম্যাডাম বললেন, “না। রাতকানা বলতে কম আলোতে দেখতে অসুবিধা হওয়াকে বোঝায়।”
নুসরাত বলল, “তাহলে ভিটামিনের অভাব শরীরের স্বাভাবিক কাজেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।”
“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।
রঙিন খাবারের অভিযান
ফারজানা মরিয়ম বললেন, “আজ তোমাদের একটি কাজ আছে। তোমরা খাবারের রং অনুসারে একটি তালিকা তৈরি করবে।”
শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করল।
নুসরাত বলল, “লাল—টমেটো ও লালশাক।”
আনিশা বলল, “কমলা—গাজর ও কমলা।”
সাফুয়ান বলল, “সবুজ—পালংশাক, পুঁইশাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি।”
আবাবিল বলল, “হলুদ—কলা।”
ম্যাডাম বললেন, “খাবারের রং বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের কারণে হয়। নানা ধরনের ফল ও শাকসবজি খাবারে বৈচিত্র্য আনে এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ দেয়।”
মেফতাহুল বলল, “তাহলে আমার প্লেটটা রংধনুর মতো হওয়া উচিত!”
ম্যাডাম বললেন, “রংধনুর মতো বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবারের কথা ভাবতে পারো।”
খনিজ লবণের রহস্য
আবাবিল হাত তুলে বলল, “ম্যাডাম, ভিটামিন বুঝলাম। কিন্তু খনিজ লবণ কী?”
ফারজানা মরিয়ম বললেন, “খনিজ লবণও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কাজের জন্য এগুলো দরকার।”
মরিয়ম বলল, “আমরা এগুলো কোথা থেকে পাই?”
“বিভিন্ন খাবার থেকে,” বললেন ম্যাডাম। “বিশেষ করে নানা ধরনের শাকসবজি, ফলমূল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার থেকে।”
আসাদুল্লাহ বলল, “অর্থাৎ শরীরের জন্য শুধু এক ধরনের খাবার নয়, অনেক ধরনের খাবার দরকার।”
“খুব ভালো,” বললেন ম্যাডাম।
খাবারের প্লেটে বৈচিত্র্য
ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে একটি খাবারের প্লেট আঁকলেন।
তিনি বললেন, “ধরো, একটি প্লেটে ভাত আছে। এর সঙ্গে যদি ডাল, সবজি, মাছ বা ডিম এবং একটি ফল থাকে, তাহলে খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ থাকে।”
নুসরাত বলল, “তাহলে একটি খাবারের প্লেটেও বিজ্ঞান আছে!”
ম্যাডাম বললেন, “অবশ্যই। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যেই বিজ্ঞান লুকিয়ে থাকে।”
মেফতাহুলের সবজি পরীক্ষা
পরের দিন মেফতাহুল স্কুলে এসে বলল, “ম্যাডাম, আমি পরীক্ষা করেছি!”
ম্যাডাম অবাক হয়ে বললেন, “কী পরীক্ষা?”
“গতকাল রাতে আমি মাকে বলেছি আমার প্লেটে তিন রঙের সবজি দিতে।”
সবাই হাততালি দিল।
ম্যাডাম বললেন, “তারপর?”
“আমি গাজর, টমেটো আর সবুজ শাক খেয়েছি।”
নুসরাত বলল, “তুমি কি সবগুলো খেয়েছ?”
মেফতাহুল গর্ব করে বলল, “হ্যাঁ!”
ফারজানা মরিয়ম বললেন, “খুব ভালো। তবে শুধু রঙ দেখলেই হবে না, খাবারটি পরিষ্কার ও নিরাপদ হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।”
ফলের প্রতি ভালোবাসা
ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের প্রিয় ফল কী?”
নুসরাত বলল, “আম।”
আনিশা বলল, “কমলা।”
আবাবিল বলল, “পেয়ারা।”
সাফুয়ান বলল, “কলা।”
আবু তালহা বলল, “তরমুজ।”
মরিয়ম বলল, “লিচু।”
আসাদুল্লাহ বলল, “জাম।”
মেফতাহুল বলল, “সব!”
সবাই আবার হাসল।
ম্যাডাম বললেন, “বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া ভালো। ফল আমাদের ভিটামিন, খনিজ লবণ ও অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদান পেতে সাহায্য করতে পারে।”
শুধু ফল খেলেই হবে?
মেফতাহুল বলল, “যেহেতু ফলে ভিটামিন আছে, তাহলে আমি শুধু ফল খাব!”
ম্যাডাম বললেন, “না, আবার একই ভুল!”
মেফতাহুল মাথা চুলকে বলল, “তাহলে?”
“শরীরের জন্য শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি—বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান দরকার। তাই বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।”
নুসরাত বলল, “একটি খাবার সব চাহিদা পূরণ করতে পারে না।”
“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।
পুষ্টির দলবদ্ধ কাজ
ফারজানা মরিয়ম বললেন, “ধরো, আমাদের শরীর একটি বড় দলের মতো।”
তিনি বোর্ডে কয়েকটি ছোট চরিত্র আঁকলেন।
“শর্করা শক্তির কাজে সাহায্য করছে। আমিষ শরীরের গঠন ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করছে। চর্বি শক্তি জোগাতে ও সঞ্চয়ে সাহায্য করছে। ভিটামিন ও খনিজ লবণ শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করছে। আর পানি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করছে।”
আনিশা বলল, “সবাই মিলে কাজ করলেই শরীর ভালো থাকবে।”
ম্যাডাম বললেন, “ঠিক তাই।”
রোগ প্রতিরোধের প্রশ্ন
আবু তালহা বলল, “ম্যাডাম, আমরা যদি প্রতিদিন ফল আর শাকসবজি খাই, তাহলে কি কখনো অসুস্থ হব না?”
ফারজানা মরিয়ম বললেন, “মানুষের অসুস্থ হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। পুষ্টিকর খাবার শরীরকে সুস্থ রাখতে ও স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি অসুস্থ না হওয়ার নিশ্চয়তা নয়।”
আসাদুল্লাহ বলল, “তাহলে স্বাস্থ্যকর খাবার হলো সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
“একদম ঠিক।”
বাজারে ভিটামিন গোয়েন্দা
একদিন ফারজানা মরিয়ম শিক্ষার্থীদের নিয়ে আবার বাজারে গেলেন। তিনি বললেন, “আজ তোমাদের কাজ হলো এমন খাবার খুঁজে বের করা, যেগুলো থেকে ভিটামিন ও খনিজ লবণ পাওয়া যেতে পারে।”
শিক্ষার্থীরা চারদিকে তাকাতে লাগল।
“পেয়ারা!” বলল নুসরাত।
“গাজর!” বলল আনিশা।
“পালংশাক!” বলল সাফুয়ান।
“টমেটো!” বলল আবাবিল।
“কলা!” বলল আবু তালহা।
মরিয়ম বলল, “কমলা!”
ম্যাডাম বললেন, “খুব ভালো। তবে মনে রাখবে, কোনো একটি ফল বা সবজিকে সব ভিটামিনের একমাত্র উৎস ভাববে না। বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়াই ভালো।”
খাবার ধোয়ার শিক্ষা
বাজার থেকে ফেরার পথে ম্যাডাম বললেন, “আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে।”
সবাই তাকাল।
“ফল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
মেফতাহুল বলল, “তাহলে শুধু পুষ্টিকর হলেই হবে না, পরিষ্কারও হতে হবে।”
“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।
ফারজানা ম্যাডামের ছোট্ট পরীক্ষা
পরদিন ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে তিনটি ছবি রাখলেন। প্রথম ছবিতে ছিল শুধু ভাত। দ্বিতীয় ছবিতে ছিল ভাত ও ডাল। তৃতীয় ছবিতে ছিল ভাত, ডাল, সবজি, মাছ ও ফল।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কোন খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য বেশি?”
সবাই বলল, “তৃতীয়টি।”
“কেন?”
নুসরাত বলল, “কারণ সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার আছে।”
আনিশা বলল, “তাই বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগও বেশি।”
ম্যাডাম বললেন, “চমৎকার।”
বিজ্ঞান খাতায় আজকের শিক্ষা
সবাই খাতা খুলল। ফারজানা মরিয়ম লিখতে বললেন—
ভিটামিন ও খনিজ লবণ: শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎস: বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার।
বিশেষ উদাহরণ: ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগের মতো সমস্যা হতে পারে।
সবাই মনোযোগ দিয়ে লিখে নিল।
একটি নতুন রহস্য
ক্লাসের শেষদিকে মেফতাহুল বলল, “ম্যাডাম, আজ আমরা ভিটামিন আর খনিজ লবণের কথা শিখলাম। কিন্তু আপনি গত ক্লাসে বলেছিলেন পানি সম্পর্কেও একটা বড় রহস্য আছে।”
ফারজানা মরিয়ম বললেন, “তুমি ঠিকই মনে রেখেছ।”
নুসরাত বলল, “পানি তো আমরা প্রতিদিনই পান করি। এতে আবার কী বিজ্ঞান আছে?”
ম্যাডাম বললেন, “তোমরা কি জানো পানি খাবার হজমে সাহায্য করে, শরীরে পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে এবং ঘাম ও মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে?”
সবাই অবাক হয়ে গেল।
সাফুয়ান বলল, “তাহলে পানি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না!”
“একদম ঠিক,” বললেন ম্যাডাম। “পানি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
মেফতাহুল বলল, “তাহলে পরের অধ্যায়ে পানির জাদু!”
ফারজানা মরিয়ম হাসলেন। “হ্যাঁ। তবে মনে রাখবে, শুধু পানি হলেই হবে না—পানি বিশুদ্ধ ও নিরাপদ হওয়াও জরুরি।”
শিক্ষার্থীরা একে অন্যের দিকে তাকাল।
নতুন রহস্যের দরজা আবার খুলে গেল।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে নুসরাত একটি ফলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “আজ থেকে ফল আর শাকসবজিকে আমি শুধু খাবার হিসেবে দেখব না।”
আনিশা বলল, “আমিও। এগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে ভিটামিন ও খনিজ লবণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি।”
মেফতাহুল বলল, “আর শাককে আর শত্রু ভাবব না!”
আবাবিল বলল, “সত্যিই?”
মেফতাহুল বলল, “হ্যাঁ। তবে শাক যেন আমার প্লেটে বেশি করে আসে, সেটা আগে মাকে জানাতে হবে!”
সবাই হাসতে হাসতে বাড়ির পথে এগিয়ে গেল।
তাদের খাদ্যবিজ্ঞান অভিযান এবার পৌঁছে গেল এমন এক উপাদানের কাছে, যা ছাড়া মানুষের জীবন কল্পনাই করা যায় না।
পানি।
চলবে...
📝 অধ্যায় ৬: MCQ
১. ভিটামিন ও খনিজ লবণ আমাদের কী করতে সাহায্য করে?
ক) শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে
খ) শুধু ঘুমাতে
গ) শুধু ক্ষুধা বাড়াতে
ঘ) শুধু শরীরের ওজন বাড়াতে
২. নিচের কোনটি ভিটামিন ও খনিজ লবণের ভালো উৎস?
ক) বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি
খ) শুধু চিনি
গ) শুধু তেল
ঘ) শুধু লবণ
৩. ভিটামিনের অভাবে কোন রোগ হতে পারে?
ক) রাতকানা
খ) সর্দি সব সময়
গ) দাঁত নীল হওয়া
ঘ) চুল সাদা হওয়া
৪. রাতকানা বলতে কী বোঝায়?
ক) রাতে ঘুম না আসা
খ) কম আলোতে দেখতে অসুবিধা হওয়া
গ) দিনে দেখতে না পাওয়া
ঘ) সব সময় চোখ বন্ধ থাকা
৫. নিচের কোনটি ফল?
ক) পেয়ারা
খ) ডাল
গ) চাল
ঘ) মাখন
৬. নিচের কোনটি শাকসবজির উদাহরণ?
ক) পালংশাক
খ) ডিম
গ) মাছ
ঘ) দুধ
৭. ভিটামিন ও খনিজ লবণ শরীরের কী বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ?
ক) স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
খ) শুধু উচ্চতা
গ) শুধু ক্ষুধা
ঘ) শুধু ঘুম
৮. খাবারে বৈচিত্র্য রাখা কেন ভালো?
ক) বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ থাকে
খ) শুধু খাবার সুন্দর দেখায়
গ) শুধু খাবারের দাম বাড়ে
ঘ) শুধু পেট ভরে
৯. ফল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে কী করা উচিত?
ক) ভালোভাবে পরিষ্কার করা
খ) মাটিতে রাখা
গ) না ধুয়ে খাওয়া
ঘ) দীর্ঘ সময় রোদে রাখা
১০. নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
ক) শুধু ভিটামিন খেলেই শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়
খ) শুধু ফল খেলেই সুস্থ থাকা যায়
গ) শরীরের জন্য বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার দরকার
ঘ) শাকসবজির কোনো পুষ্টিগুণ নেই
উত্তরমালা:
১. ক | ২. ক | ৩. ক | ৪. খ | ৫. ক | ৬. ক | ৭. ক | ৮. ক | ৯. ক | ১০. গ