শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
মজার সাথে শিক্ষা - ক্লাস ৩

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: ব্যাঙের দুই জগৎ

আশরাফ উল আসাদ • 07 সেপ্টেম্বর 2026, 03:25 দুপুর • 145 বার পঠিত
তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: ব্যাঙের দুই জগৎ

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প ২: প্রাণী পরিচিতি


অধ্যায় ৬: ব্যাঙের দুই জগৎ


সেদিন সকাল থেকেই তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাসে উত্তেজনা।

ফারজানা মরিয়ম ম্যাডাম আগের দিন যাওয়ার সময় শুধু একটি কথা বলেছিলেন—

“আগামী ক্লাসে আমরা এমন একটি প্রাণীর সঙ্গে পরিচিত হব, যার জীবনে আছে দুই জগতের গল্প।”


সেই একটি কথাই শিক্ষার্থীদের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছিল।


মেফতাহুল জান্নাত বলছিল,


“আমি মনে করি প্রাণীটা কোনো জাদুকর!”


আনিশা মারজান বলল,


“জাদুকর আবার প্রাণী হয় নাকি?”


মেফতাহুল বলল,


“বিজ্ঞানের জগতে সবই সম্ভব!”


নুসরাত জাহান হেসে বলল,


“আমার মনে হয় প্রাণীটা ব্যাঙ।”


ঠিক তখনই ফারজানা মরিয়ম ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে ঢুকলেন।


তিনি কোনো কথা না বলে বোর্ডে একটি ছবি আঁকলেন।


একটি ব্যাঙ।


সবাই একসঙ্গে বলে উঠল—


“ব্যাঙ!”


ম্যাডাম হাসলেন।


“ঠিক ধরেছ। আজকের অভিযান—ব্যাঙের দুই জগৎ।”


---


ব্যাঙ কি মাছ?


ফারজানা মরিয়ম প্রথমেই প্রশ্ন করলেন,


“ব্যাঙ কি মাছ?”


সবাই একসঙ্গে বলল,


“না!”


“কেন?”


আবাবিল আল আলিফ বলল,


“মাছ পানিতে থাকে।”


সাফুয়ান বলল,


“ব্যাঙও তো পানিতে থাকে!”


ম্যাডাম বললেন,


“খুব ভালো পর্যবেক্ষণ। কিন্তু শুধু পানিতে থাকা দেখে প্রাণীর শ্রেণি নির্ধারণ করা যায় না।”


আসাদুল্লাহ আল গালিব বলল,


“তাহলে ব্যাঙ কোন দলের?”


ম্যাডাম বোর্ডে লিখলেন—


উভচর


“ব্যাঙ হলো উভচর প্রাণী।”


মেফতাহুল বলল,


“উভচর মানে কি দুই জায়গায় চলাচল করে?”


“খুব ভালো। উভচর প্রাণীরা তাদের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে জল ও স্থল—দুই পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে।”


---


ব্যাঙের দুই বাড়ি


মরিয়ম আক্তার জিজ্ঞেস করল,


“ব্যাঙ কোথায় থাকে?”


“ব্যাঙ জল ও স্থল—উভয় পরিবেশেই থাকতে পারে।”


নুসরাত বলল,


“তাহলে ব্যাঙের একটা পানির বাড়ি আর একটা ডাঙার বাড়ি!”


ফারজানা মরিয়ম বললেন,


“তোমাদের ভাষায় এভাবে বলা যায়।”


মেফতাহুল বলল,


“তাহলে ব্যাঙকে বাড়ি বদলাতে ভাড়া দিতে হয় না!”


সবাই হেসে উঠল।


ম্যাডাম বললেন,


“বিজ্ঞান শেখার সময় হাসতে পারো, কিন্তু তথ্যটা মনে রাখতে হবে—ব্যাঙ উভচর প্রাণী।”


---


ব্যাঙের ছোটবেলার গল্প


ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে আরেকটি ছবি আঁকলেন।


একটি ছোট্ট প্রাণী।


তার লেজ আছে।


পা নেই।


আবু তালহা অবাক হয়ে বলল,


“এটা কী?”


ম্যাডাম বললেন,


“এটি ব্যাঙাচি।”


“ব্যাঙাচি কি ব্যাঙের বাচ্চা?”


“হ্যাঁ। ব্যাঙের জীবনচক্রের একটি প্রাথমিক পর্যায় হলো ব্যাঙাচি।”


মেফতাহুল বলল,


“কিন্তু দেখতে তো মাছের মতো!”


“দেখতে কিছুটা মাছের মতো মনে হতে পারে, কারণ ব্যাঙাচি পানিতে বাস করে এবং তার লেজ থাকে।”


আনিশা বলল,


“তাহলে ব্যাঙাচি বড় হয়ে ব্যাঙ হয়?”


“ঠিক।”


---


ব্যাঙাচির জীবন


ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে ধাপে ধাপে কয়েকটি ছবি আঁকলেন।


ডিম → ব্যাঙাচি → পা গজানো ব্যাঙাচি → পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ


তিনি বললেন,


“ব্যাঙের জীবনচক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।”


নুসরাত বলল,


“প্রথমে ডিম।”


“হ্যাঁ।”


“তারপর ব্যাঙাচি।”


“হ্যাঁ।”


“তারপর পা গজায়।”


“ঠিক।”


“তারপর পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ।”


ম্যাডাম বললেন,


“চমৎকার!”


মেফতাহুল হাত তুলে বলল,


“মানুষেরও কি এমন লেজ গজায়?”


সবাই হেসে ফেলল।


ম্যাডাম বললেন,


“না। প্রাণীর জীবনচক্র একেক প্রজাতির ক্ষেত্রে একেক রকম।”


---


ব্যাঙাচি কোথায় থাকে?


আবাবিল জিজ্ঞেস করল,


“ব্যাঙাচি কোথায় থাকে?”


“ব্যাঙাচি সাধারণত পানিতে থাকে।”


“তাহলে ছোট অবস্থায় ব্যাঙের জীবন পানির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত?”


“হ্যাঁ।”


ম্যাডাম বললেন,


“ব্যাঙের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে তার দেহের গঠন ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আসে।”


---


ব্যাঙের লাফ


ঠিক তখনই বাইরে থেকে একটি শব্দ শোনা গেল—


ছপাৎ!


সবাই জানালার দিকে তাকাল।


পুকুরের পাশে একটি ব্যাঙ লাফ দিয়েছে।


মেফতাহুল বলল,


“ম্যাডাম! আপনার উদাহরণ নিজেই চলে এসেছে!”


ফারজানা মরিয়ম বললেন,


“তাহলে এবার ব্যাঙের চলন পর্যবেক্ষণ করো।”


সবাই জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখল।


ব্যাঙটি একবার লাফ দিল।


তারপর আবার লাফ দিল।


সাফুয়ান বলল,


“ব্যাঙের পেছনের পা অনেক শক্তিশালী!”


ম্যাডাম বললেন,


“ঠিক। ব্যাঙের শক্তিশালী পেছনের পা তাকে লাফাতে সাহায্য করে।”


---


ব্যাঙ কীভাবে শ্বাস নেয়?


আসাদুল্লাহ প্রশ্ন করল,


“ম্যাডাম, ব্যাঙ কি মাছের মতো ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়?”


“পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ মাছ নয়। বড় ব্যাঙ ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নেয় এবং ত্বকের মাধ্যমেও গ্যাসের আদান-প্রদান করতে পারে।”


আনিশা বলল,


“ত্বক দিয়েও?”


“হ্যাঁ। ব্যাঙের আর্দ্র ত্বক তার শ্বাসকার্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”


মেফতাহুল নিজের হাতের চামড়ার দিকে তাকিয়ে বলল,


“তাহলে আমার ত্বকও কি শ্বাস নেয়?”


ম্যাডাম হেসে বললেন,


“মানুষের ত্বক ব্যাঙের মতো শ্বাসকার্যের প্রধান অঙ্গ নয়। প্রাণীভেদে শ্বাস নেওয়ার পদ্ধতি আলাদা।”


---


ব্যাঙের ভেজা ত্বক


মরিয়ম বলল,


“ব্যাঙের ত্বক সব সময় ভেজা মনে হয় কেন?”


ম্যাডাম বললেন,


“ব্যাঙের ত্বক আর্দ্র থাকে। এই আর্দ্রতা তার ত্বকের মাধ্যমে গ্যাসের আদান-প্রদানে সহায়তা করে।”


নুসরাত বলল,


“তাই ব্যাঙ পানির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে?”


“জল ও আর্দ্র পরিবেশ ব্যাঙের জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ।”


---


ব্যাঙ কেন উপকারী?


আবু তালহা জিজ্ঞেস করল,


“ব্যাঙ কি মানুষের কোনো উপকার করে?”


“অবশ্যই।”


“কীভাবে?”


ফারজানা মরিয়ম বললেন,


“ব্যাঙ অনেক পোকামাকড় খায়। তাই প্রকৃতির খাদ্যজালে ব্যাঙের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”


আসাদুল্লাহ বলল,


“তাহলে ব্যাঙ মশাও খেতে পারে?”


“কিছু ব্যাঙ বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় খেতে পারে।”


মেফতাহুল বলল,


“তাহলে ব্যাঙ আমাদের পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের দলে আছে!”


ম্যাডাম বললেন,


“বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, ব্যাঙ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।”


---


উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য


ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে লিখলেন—


উভচর প্রাণী


তার নিচে লিখলেন—


- জল ও স্থল—দুই পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত

- জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন ঘটে

- ব্যাঙ একটি উভচর প্রাণী

- ব্যাঙাচি পানিতে বাস করে

- পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ জল ও স্থল উভয় পরিবেশে থাকতে পারে


তিনি বললেন,


“এই বৈশিষ্ট্যগুলো মনে রাখবে।”


সবাই খাতায় লিখে নিল।


---


শুধু ব্যাঙই কি উভচর?


নুসরাত জিজ্ঞেস করল,


“ম্যাডাম, সব উভচর প্রাণী কি ব্যাঙ?”


“না।”


“আর কারা আছে?”


ম্যাডাম বললেন,


“ব্যাঙ ছাড়াও ব্যাঙের মতো আরও কিছু প্রাণী উভচর দলের অন্তর্ভুক্ত। যেমন—কুনোব্যাঙ।”


সাফুয়ান বলল,


“তাহলে ব্যাঙ উভচরদের একটি উদাহরণ।”


“ঠিক।”


---


পাঁচ দলের পাজল


ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে পাঁচটি ঘর আঁকলেন।


মাছ | উভচর | সরীসৃপ | পাখি | স্তন্যপায়ী


তিনি বললেন,


“এখন আমি প্রাণীর নাম বলব। তোমরা ঠিক ঘরে বসাবে।”


“রুই।”


সবাই বলল,


“মাছ!”


“ব্যাঙ।”


“উভচর!”


“সাপ।”


“সরীসৃপ!”


“দোয়েল।”


“পাখি!”


“গরু।”


“স্তন্যপায়ী!”


ম্যাডাম বললেন,


“দারুণ!”


মেফতাহুল বলল,


“এই খেলাটা আবার খেলব!”


---


ব্যাঙ বনাম মাছ


ম্যাডাম দুটি ছবি পাশাপাশি রাখলেন।


একটি মাছ।


একটি ব্যাঙ।


“দুটির মধ্যে পার্থক্য বলো।”


আনিশা বলল,


“মাছ পানিতে বাস করে।”


আবাবিল বলল,


“ব্যাঙ জল ও স্থল উভয় পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।”


সাফুয়ান বলল,


“মাছের পাখনা আছে।”


আসাদুল্লাহ বলল,


“ব্যাঙের শক্তিশালী পেছনের পা আছে।”


ম্যাডাম বললেন,


“খুব ভালো। প্রাণীদের দেহের গঠন তাদের জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত।”


---


বিজ্ঞানীর প্রশ্ন


ফারজানা মরিয়ম এবার একটি কঠিন প্রশ্ন করলেন—


“ধরো, তুমি পুকুরের ধারে একটি ছোট ব্যাঙাচি দেখতে পেলে। তুমি কীভাবে বুঝবে এটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ নয়?”


মরিয়ম বলল,


“এর লেজ থাকবে।”


আনিশা বলল,


“এটি পানিতে থাকবে।”


আবাবিল বলল,


“এর দেহের গঠন পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙের মতো হবে না।”


ম্যাডাম বললেন,


“চমৎকার। পর্যবেক্ষণ থেকেই বিজ্ঞানী তথ্য সংগ্রহ করে।”


---


প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব


ক্লাস শেষে ফারজানা মরিয়ম শিক্ষার্থীদের নিয়ে আবার পুকুরের পাশে গেলেন।


তিনি বললেন,


“এই জলাশয় শুধু মানুষের জন্য নয়। অনেক প্রাণীর বাসস্থান।”


নুসরাত বলল,


“মাছের।”


“হ্যাঁ।”


আবাবিল বলল,


“ব্যাঙের।”


“হ্যাঁ।”


সাফুয়ান বলল,


“আর অনেক ছোট প্রাণীরও।”


ম্যাডাম বললেন,


“তাই জলাশয়ে ময়লা ফেলা উচিত নয়। জলজ ও উভচর প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য পরিষ্কার ও উপযুক্ত পরিবেশ দরকার।”


সবাই মাথা নাড়ল।


মেফতাহুল বলল,


“আজ থেকে পুকুরে কেউ ময়লা ফেললে আমি তাকে বিজ্ঞান দিয়ে বুঝিয়ে বলব!”


ম্যাডাম বললেন,


“এটাই একজন ছোট বিজ্ঞানীর দায়িত্বশীল আচরণ।”


---


রহস্য আরও গভীর হলো


ফেরার সময় ফারজানা মরিয়ম আবার বোর্ডে পাঁচটি শব্দ লিখলেন—


মাছ

উভচর

সরীসৃপ

পাখি

স্তন্যপায়ী


তিনি বললেন,


“আজ আমরা উভচর প্রাণী সম্পর্কে জানলাম। কিন্তু আমাদের সামনে এখনো তিনটি বড় দল রয়েছে।”


মেফতাহুল বলল,


“সরীসৃপ!”


আনিশা বলল,


“পাখি!”


আবাবিল বলল,


“স্তন্যপায়ী!”


ম্যাডাম বললেন,


“পরের অধ্যায়ে আমরা এমন প্রাণীদের সঙ্গে পরিচিত হব, যাদের দেহ সাধারণত শুষ্ক ও আঁশযুক্ত এবং যারা নিজেদের বিশেষ পদ্ধতিতে চলাফেরা করে।”


মেফতাহুল চোখ বড় করে বলল,


“সাপ?”


ম্যাডাম মুচকি হাসলেন।


“হয়তো।”


শিক্ষার্থীদের কৌতূহল আরও বেড়ে গেল।


একদিকে পুকুরে ব্যাঙ ডাকছিল—


ব্যাঙ... ব্যাঙ...


আর অন্যদিকে গাছের পাতার আড়ালে যেন কোনো অজানা প্রাণী নড়েচড়ে উঠল।


পরবর্তী রহস্য যেন তাদের ডাকছিল—


সরীসৃপের রহস্য!


চলবে...


📝 অধ্যায় ৬: MCQ


১. ব্যাঙ কোন শ্রেণির প্রাণী?

ক) মাছ

খ) উভচর

গ) সরীসৃপ

ঘ) স্তন্যপায়ী


২. ব্যাঙের বাচ্চাকে কী বলা হয়?

ক) শাবক

খ) পোনা

গ) ব্যাঙাচি

ঘ) বাচ্চা পাখি


৩. ব্যাঙাচি সাধারণত কোথায় বাস করে?

ক) পানিতে

খ) মরুভূমিতে

গ) গাছে

ঘ) শুকনো মাটির নিচে


৪. ব্যাঙের লাফাতে কোন অঙ্গ বিশেষভাবে সাহায্য করে?

ক) সামনের পা

খ) পেছনের শক্তিশালী পা

গ) ডানা

ঘ) পাখনা


৫. ব্যাঙ কোন দুটি পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত?

ক) শুধু আকাশ ও গাছ

খ) শুধু মাটি ও মরুভূমি

গ) জল ও স্থল

ঘ) বরফ ও মরুভূমি


উত্তরমালা:

১. খ | ২. গ | ৩. ক | ৪. খ | ৫. গ


লেখক: আশরাফ উল আসাদ

#শিক্ষার্থীদের পাতা #শিক্ষা