তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: বিদ্যুতের বিস্ময়কর শক্তি
তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প ৫: শক্তি
অধ্যায় ৩: বিদ্যুতের বিস্ময়কর শক্তি
লেখক: আশরাফ উল আসাদ
পরদিন ফারজানা মরিয়ম ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে ঢুকতেই দেখলেন, মেফতাহুল জান্নাত টেবিলের ওপর তার ছোট টর্চটি রেখে বসে আছে।
তার চোখেমুখে আগের দিনের সেই কৌতূহল।
ম্যাডাম হেসে বললেন, “মেফতাহুল, আজ কি টর্চ খুলে ফেলেছ?”
মেফতাহুল দ্রুত মাথা নাড়ল।
“না ম্যাডাম! আপনি নিষেধ করেছিলেন।”
আবাবিল আল আলিফ বলল, “কিন্তু ও গতকাল রাতে টর্চটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল!”
সবাই হেসে উঠল।
ম্যাডাম বললেন, “ভালো। কারণ আজ আমরা টর্চের ভেতরের রহস্যের কাছাকাছি যাব।”
নুসরাত জাহান সঙ্গে সঙ্গে বলল, “বিদ্যুৎ শক্তির রহস্য?”
“ঠিক তাই,” বললেন ম্যাডাম।
বিদ্যুৎ কোথায়?
ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষের ফ্যানের দিকে তাকালেন।
“ফ্যানটি কেন ঘুরছে?”
সাফুয়ান বলল, “বিদ্যুৎ শক্তির কারণে।”
“বাতি কীভাবে জ্বলছে?”
আনিশা মারজান বলল, “বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে।”
“কম্পিউটার কীভাবে চলে?”
আসাদুল্লাহ আল গালিব বলল, “বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।”
ম্যাডাম বললেন, “চমৎকার।”
“আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার অনেক।”
তিনি বোর্ডে লিখলেন—
বিদ্যুৎ শক্তি
তার নিচে লিখলেন—
“বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে আমরা নানা কাজ করি।”
এক মিনিটের বিদ্যুৎ অভিযান
ম্যাডাম বললেন, “এখন সবাই শ্রেণিকক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এমন পাঁচটি জিনিস খুঁজে বের করবে।”
সবাই চারদিকে তাকাতে শুরু করল।
নুসরাত বলল, “ফ্যান!”
আনিশা বলল, “বাতি!”
আবু তালহা বলল, “কম্পিউটার!”
মরিয়ম আক্তার বলল, “প্রজেক্টর!”
সাফুয়ান বলল, “চার্জার!”
মেফতাহুল বলল, “আমার টর্চ!”
ম্যাডাম বললেন, “টর্চে ব্যাটারি ব্যবহার হতে পারে। ব্যাটারিও বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করতে পারে।”
মেফতাহুল গর্ব করে বলল, “তাহলে আমার টর্চও আজকের ক্লাসের ছাত্র!”
বিদ্যুৎ চলে গেলে
হঠাৎ—
ফট!
শ্রেণিকক্ষের ফ্যান বন্ধ হয়ে গেল।
বাতিও নিভে গেল।
সবাই চমকে উঠল।
মেফতাহুল বলল, “ম্যাডাম! বিদ্যুৎ পালিয়ে গেছে!”
সাফুয়ান বলল, “বিদ্যুৎ হয়তো একটু বিশ্রাম নিতে গেছে!”
ম্যাডাম হেসে বললেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি, কারণ অনেক যন্ত্র তখন কাজ করা বন্ধ করে দেয়।”
তিনি জানালার পর্দা সরিয়ে দিলেন।
সূর্যের আলো শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ল।
“দেখো, আলো না থাকলেও সূর্যের আলোর সাহায্যে আমরা কিছুটা দেখতে পারছি।”
নুসরাত বলল, “প্রকৃতির আলো আর বিদ্যুতের আলো আলাদা উৎস থেকে আসে।”
বিদ্যুৎ কী কী চালায়?
বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর ফ্যান আবার ঘুরতে শুরু করল।
ম্যাডাম বললেন, “এবার আমরা বিদ্যুতের ব্যবহারগুলো সাজাব।”
তিনি বোর্ডে কয়েকটি শব্দ লিখলেন—
ফ্যান
বাতি
টেলিভিশন
ফ্রিজ
কম্পিউটার
“এগুলো কীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে?”
আনিশা বলল, “বিদ্যুৎ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগুলো কাজ করে।”
ম্যাডাম বললেন, “ঠিক।”
ফ্যানের রহস্য
ম্যাডাম ফ্যানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ফ্যান নিজে নিজে ঘোরে না।”
“বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে এর ভেতরের ব্যবস্থা কাজ করে এবং পাখা ঘুরতে থাকে।”
আবু তালহা বলল, “তাই সুইচ বন্ধ করলে ফ্যান থেমে যায়।”
“হ্যাঁ,” বললেন ম্যাডাম।
“সুইচ চালু ও বন্ধ করার মাধ্যমে আমরা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।”
বাতির আলো
ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষের বাতি জ্বালালেন।
“এই বাতি কী দিচ্ছে?”
সবাই বলল, “আলো।”
“তাহলে এখানে বিদ্যুৎ শক্তি কী কাজে লাগছে?”
মরিয়ম বলল, “আলো তৈরি করতে।”
ম্যাডাম বললেন, “ঠিক।”
“বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক বাতি আলোক শক্তি দিতে পারে।”
নুসরাত বলল, “অর্থাৎ এক ধরনের শক্তি অন্য ধরনের শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।”
ম্যাডাম বললেন, “খুব ভালো পর্যবেক্ষণ।”
টেলিভিশনের গল্প
ম্যাডাম একটি টেলিভিশনের ছবি দেখালেন।
“টেলিভিশন কী করে?”
সাফুয়ান বলল, “আমাদের ছবি দেখায়।”
আবাবিল বলল, “শব্দও শোনায়।”
ম্যাডাম বললেন, “ঠিক।”
“টেলিভিশন বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে ছবি ও শব্দ প্রদর্শন করতে পারে।”
মেফতাহুল বলল, “তাহলে টেলিভিশন একসঙ্গে চোখ আর কান—দুটোকেই ব্যস্ত রাখে!”
ম্যাডাম বললেন, “কিন্তু মনে রেখো, দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা ঠিক নয়।”
ফ্রিজের ঠান্ডা রহস্য
ম্যাডাম এবার ফ্রিজের একটি ছবি দেখালেন।
“ফ্রিজ কেন ব্যবহার করা হয়?”
আসাদুল্লাহ বলল, “খাবার ঠান্ডা রাখতে।”
“ঠিক।”
“ফ্রিজও বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে কাজ করে।”
আনিশা বলল, “তাহলে বিদ্যুৎ শুধু আলো বা ফ্যানের জন্য নয়।”
“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।
“বিদ্যুৎ আমাদের নানা ধরনের যন্ত্র চালাতে সাহায্য করে।”
কম্পিউটারের শক্তি
ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষের কম্পিউটারের কাছে গেলেন।
“কম্পিউটার দিয়ে আমরা কী করতে পারি?”
নুসরাত বলল, “পড়াশোনা করতে পারি।”
আবু তালহা বলল, “তথ্য খুঁজতে পারি।”
মরিয়ম বলল, “ছবি ও লেখা তৈরি করতে পারি।”
ম্যাডাম বললেন, “এসব কাজের জন্য কম্পিউটারকে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করতে হয়।”
ব্যাটারির রহস্য
মেফতাহুল তার টর্চটি সামনে ধরল।
“এবার আমার প্রশ্ন!”
ম্যাডাম বললেন, “বলো।”
“আমার টর্চ তো দেয়ালের সঙ্গে কোনো তার দিয়ে লাগানো নেই। তাহলে এটি কীভাবে জ্বলে?”
ম্যাডাম বললেন, “টর্চের ভেতরে ব্যাটারি থাকে।”
“ব্যাটারি বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করে।”
“সেই শক্তি ব্যবহার করে টর্চের আলো জ্বলে।”
মেফতাহুল বলল, “অর্থাৎ ব্যাটারি হলো টর্চের শক্তির উৎস!”
“হ্যাঁ,” বললেন ম্যাডাম।
বিদ্যুতের ব্যবহার, কিন্তু সাবধানে
ম্যাডাম এবার গম্ভীর হলেন।
“বিদ্যুৎ আমাদের জন্য খুব উপকারী। কিন্তু বিদ্যুৎ নিয়ে অসতর্ক হওয়া বিপজ্জনক।”
সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনল।
“ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক সুইচ ধরবে না।”
“খোলা বৈদ্যুতিক তারে হাত দেবে না।”
“বৈদ্যুতিক সকেটে কোনো বস্তু ঢোকাবে না।”
“বিদ্যুতের কোনো সমস্যা হলে বড়দের জানাবে।”
মেফতাহুল বলল, “আজ থেকে বিদ্যুতের সঙ্গে শুধু দূর থেকে বন্ধুত্ব করব!”
ম্যাডাম বললেন, “এটাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
বিদ্যুৎ অপচয় করা উচিত নয়
ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষের একটি বাতির দিকে তাকালেন।
“দিনের বেলায় জানালা দিয়ে পর্যাপ্ত আলো আসছে। তাহলে সব বাতি জ্বালিয়ে রাখার দরকার আছে?”
সবাই বলল, “না।”
“তাহলে?”
নুসরাত বলল, “প্রয়োজন না হলে বাতি বন্ধ করতে হবে।”
আনিশা বলল, “কাজ না থাকলে ফ্যানও বন্ধ করা উচিত।”
ম্যাডাম বললেন, “ঠিক।”
“বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা আমাদের দায়িত্ব।”
কে কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে?
ম্যাডাম বোর্ডে তিনটি যন্ত্রের ছবি আঁকলেন—বাতি, ফ্যান ও টেলিভিশন।
“তোমরা কি মনে করো, সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র একইভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে?”
সাফুয়ান বলল, “সম্ভবত না।”
ম্যাডাম বললেন, “ঠিক।”
“বিভিন্ন যন্ত্রের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।”
“তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখা উচিত নয়।”
শক্তির পথ
ম্যাডাম বোর্ডে একটি সহজ চিত্র আঁকলেন—
বিদ্যুৎ শক্তি → যন্ত্র → কাজ
তিনি বললেন, “বিদ্যুৎ শক্তি বিভিন্ন যন্ত্রকে কাজ করতে সাহায্য করে।”
“বাতি আলো দিতে পারে।”
“ফ্যান ঘুরতে পারে।”
“টেলিভিশন ছবি ও শব্দ দিতে পারে।”
“ফ্রিজ খাবার ঠান্ডা রাখতে পারে।”
“কম্পিউটার নানা কাজ করতে পারে।”
আসাদুল্লাহ বলল, “একই বিদ্যুৎ শক্তি বিভিন্ন যন্ত্রে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে!”
“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।
ছোট্ট বিদ্যুৎ গোয়েন্দা খেলা
ম্যাডাম বললেন, “এবার তোমরা বাড়িতে গিয়ে খুঁজবে—কোন কোন জিনিস বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।”
নুসরাত বলল, “ফ্যান, বাতি, ফ্রিজ।”
আনিশা বলল, “টেলিভিশন, কম্পিউটার।”
সাফুয়ান বলল, “মোবাইল চার্জার।”
মরিয়ম বলল, “ওয়াশিং মেশিন।”
মেফতাহুল বলল, “রাইস কুকার!”
ম্যাডাম বললেন, “খুব ভালো।”
“তবে কোনো যন্ত্র নিজে থেকে খুলে দেখবে না। শুধু পর্যবেক্ষণ করবে।”
শেষ প্রশ্ন
ক্লাস শেষ হওয়ার আগে ম্যাডাম আবার মেফতাহুলের টর্চটি হাতে নিলেন।
তিনি টর্চের আলো দেয়ালে ফেললেন।
“আমরা জানলাম, ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি নিয়ে টর্চ আলো দেয়।”
তারপর তিনি জানালার বাইরে সূর্যের দিকে ইঙ্গিত করলেন।
“কিন্তু বিদ্যুৎ শক্তি পাওয়ার জন্য আমরা কী কী উৎস ব্যবহার করতে পারি?”
নুসরাত বলল, “এটা তো আমরা এখনো জানি না।”
ম্যাডাম বললেন, “ঠিক।”
“বিদ্যুৎ শক্তি কোথা থেকে আসে, সেটি জানলে শক্তির গল্প আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।”
মেফতাহুল বলল, “পরের ক্লাসে কি বিদ্যুতের জন্মের রহস্য?”
ম্যাডাম মুচকি হেসে বললেন, “তার থেকেও বড় কিছু।”
“আমরা দেখব, সূর্য, পানি, বাতাস ও বিভিন্ন উৎস কীভাবে আমাদের শক্তির জগৎকে সাহায্য করে।”
সবাই অবাক হয়ে একে অন্যের দিকে তাকাল।
শক্তির রহস্য যেন আরও গভীর হয়ে উঠল।
চলবে...
📝 অধ্যায় ৩: MCQ
১. বিদ্যুৎ শক্তি কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
ক) নানা যন্ত্র চালাতে
খ) শুধু পানি পান করতে
গ) শুধু বই পড়তে
ঘ) শুধু হাঁটতে
২. নিচের কোনটি বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে?
ক) ফ্যান
খ) পাথর
গ) মাটি
ঘ) গাছ
৩. বৈদ্যুতিক বাতি কী তৈরি করতে পারে?
ক) আলো
খ) মাটি
গ) পানি
ঘ) পাথর
৪. ফ্যান কীভাবে ঘুরতে পারে?
ক) বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে
খ) বই পড়ে
গ) পানি খেয়ে
ঘ) বাতাসকে দেখে
৫. টেলিভিশন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কী দিতে পারে?
ক) ছবি ও শব্দ
খ) শুধু পানি
গ) শুধু খাবার
ঘ) শুধু মাটি
৬. ফ্রিজের প্রধান একটি ব্যবহার কী?
ক) খাবার ঠান্ডা রাখা
খ) বই লেখা
গ) গাছ লাগানো
ঘ) শব্দ বন্ধ করা
৭. টর্চে সাধারণত কোনটি বিদ্যুৎ শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে?
ক) ব্যাটারি
খ) পাথর
গ) কাগজ
ঘ) পানি
৮. ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক সুইচ ধরা উচিত কি?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) সব সময়
ঘ) শুধু রাতে
৯. প্রয়োজন না হলে বৈদ্যুতিক বাতি ও ফ্যান কী করা উচিত?
ক) বন্ধ করা
খ) চালু রাখা
গ) ভেঙে ফেলা
ঘ) পানিতে রাখা
১০. বিদ্যুৎ শক্তি বিভিন্ন যন্ত্রে কী করতে সাহায্য করে?
ক) বিভিন্ন কাজ করতে
খ) শুধু ঘুমাতে
গ) শুধু খাবার খেতে
ঘ) শুধু হাঁটতে
উত্তরমালা:
১. ক | ২. ক | ৩. ক | ৪. ক | ৫. ক | ৬. ক | ৭. ক | ৮. খ | ৯. ক | ১০. ক