শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা স্থগিত করায় সংকটে ইউক্রেন

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 05 মার্চ 2025, 10:52 দুপুর • 83 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা স্থগিত করায় সংকটে ইউক্রেন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কঠিন অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে ইউক্রেন। এমনকি ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে পাঠানো অস্ত্রগুলোও ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সব ধরনের সামরিক সহায়তা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই ঘোষণার পর জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, ইউক্রেনে টেকসই শান্তির জন্য তিনি ট্রাম্পের শক্তিশালী নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে চান। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করতেও প্রস্তুত কিয়েভ।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও এর প্রভাব
গত তিন বছরে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৫.৯ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়েছে। বাইডেন প্রশাসন কিয়েভের জন্য অতিরিক্ত ৫.৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম অনুমোদন করেছিল, যা বর্তমানে স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অস্ত্র সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমনকি যেসব অস্ত্র ইউক্রেনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, সেগুলোও ফেরত নেওয়া হবে।

ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপকে দ্বিগুণ সামরিক সহায়তা দিতে হবে ইউক্রেনকে রক্ষার জন্য। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ৮০০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি ইউরোপের সময়। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।”

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা
ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য নিষেধাজ্ঞা কমানোর পরিকল্পনা করছে।

ইউক্রেনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেনের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রি জাগোরোদনিয়ুক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ইউক্রেনকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে। ইউক্রেনের পার্লামেন্টের এক সদস্য বলেছেন, “ট্রাম্প ইউক্রেনকে আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।”

ইউরোপ কি ঘাটতি পূরণ করতে পারবে?
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিবর্তে ইউরোপ যদি ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে চায়, তবে এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত হবে। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প এখনো ইউরোপে নেই।

এখন প্রশ্ন হলো, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ কী হবে? যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে ইউক্রেনের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপ কি সত্যিই এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে? সময়ই এর উত্তর দেবে।