শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

যৌতুকের নির্যাতনে দুই সন্তানসহ ৩ বোনের আত্মহত্যা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 29 মে 2022, 10:11 দুপুর • 253 বার পঠিত
যৌতুকের নির্যাতনে দুই সন্তানসহ ৩ বোনের আত্মহত্যা

ভারতের রাজস্থান রাজ্যে যৌতুকের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনজন গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। জানা  যায় সম্পর্কে তারা একে অপরের বোন এবং তাদের একই পরিবারে বিয়ে হয়েছিল। দুই সন্তানসহ তারা আত্মহত্যা করেন।

এদিকে সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু দুটির মধ্যে একটির বয়স ৪ বছর, অপরটির মাত্র ২৭ দিন। আর নিহত তিন বোনের মধ্যে দুজন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তিন বোন কালু মীনা (২৫), মমতা (২৩) এবং কমলেশ (২০) দুদু জয়পুর জেলার চাপিয়া গ্রামের একই পরিবারের তিন ভাইকে বিয়ে করেছিলেন।

তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য নিয়মিত নির্যাতন করতেন। কথায় কথায় মারধরও করতেন।

গত ২৫ মে তারা নিখোঁজ হয়। আমরা হন্যে হয়ে তাদের খুঁজতে থাকি। স্থানীয় পুলিশ স্টেশন, হেল্পলাইন এবং জাতীয় মহিলা কমিশনে এফআইআর করি। তবে কারো কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাইনি।

তিন বোনের কেউই কোনো সুইসাইড নোট রেখে যাননি। তবে তাদের পরিবারের সদস্যরা কনিষ্ঠ বোন কমলেশের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি হিন্দিতে লিখেছেন, আমরা এখন চলে যাচ্ছি, তোমরা খুশি থাকো, আমাদের মৃত্যুর কারণ আমাদের শ্বশুরবাড়ি, প্রতিদিন মরার চেয়ে একবার মরে যাওয়াই ভালো! তাই, আমরা একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি, পরবর্তী জীবনে আমরা তিনজন একসঙ্গে থাকব। আমরা মরতে চাই না। কিন্তু আমাদের শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের নির্যাতন করে। আমাদের মৃত্যুর জন্য আমাদের বাবা-মাকে দায়ী করবেন না।

সন্তানসহ তিন বোন নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর আজ শনিবার সকালে দুদু গ্রামের একটি কুয়া থেকে পুলিশ তিন বোন এবং দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নির্যাতিতাদের স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। যৌতুকের কারণে মৃত্যুর একটি মামলা এখন মূল এফআইআরে যুক্ত করা হবে। তাঁদের মৃত্যুর ঘটনায় তিন স্বামী, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

রাজস্থানের নারী অধিকার কর্মীরা এই মামলার উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছেন। তারা বলছেন, রাজস্থানের এমন ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। এমন আচরণে এটা স্পষ্ট যে এখানে নারীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। মরদেহ উদ্ধারে চার দিন সময় নেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।