শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
মজার সাথে শিক্ষা - ক্লাস ৩

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: খাবার থেকে শরীরের শক্তি

আশরাফ উল আসাদ • 11 সেপ্টেম্বর 2026, 06:17 সকাল • 124 বার পঠিত
তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: খাবার থেকে শরীরের শক্তি

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প ৫: শক্তি


অধ্যায় ৭: খাবার থেকে শরীরের শক্তি


আশরাফ উল আসাদ


সেদিন সকালে ফারজানা মরিয়ম ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে ঢুকতেই দেখলেন, সবাই বেশ চুপচাপ বসে আছে।

নুসরাত জাহান মাথা নিচু করে বই দেখছে।

আনিশা মারজান বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে।

সাফুয়ান পেটের ওপর হাত রেখে বসে আছে।

ম্যাডাম জিজ্ঞেস করলেন, “আজ সবাই এত চুপচাপ কেন?”

আবাবিল আল আলিফ ধীরে ধীরে বলল, “ম্যাডাম, আমাদের ক্ষুধা লেগেছে!”

আবু তালহা বলল, “আমার পেট তো মনে হচ্ছে ঢোল বাজাচ্ছে!”

ঠিক তখনই সাফুয়ানের পেট থেকে গুড়গুড় শব্দ হলো।

সবাই হেসে উঠল।


ফারজানা ম্যাডাম বললেন, “ক্ষুধা লাগলে শরীর আমাদের জানায় যে তার খাবার দরকার। কারণ খাবার থেকেই আমরা কাজ করার শক্তি পাই।”


খাবার কি শক্তি দেয়?


মেফতাহুল জান্নাত অবাক হয়ে বলল, “খাবারের মধ্যে শক্তি থাকে?”

“হ্যাঁ,” বললেন ম্যাডাম। “আমরা যখন ভাত, রুটি, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য খাবার খাই, তখন আমাদের শরীর সেই খাবার থেকে শক্তি পায়।”

মরিয়ম আক্তার বলল, “তাহলে খাবার শুধু পেট ভরায় না?”

“ঠিক বলেছ,” বললেন ম্যাডাম। “খাবার আমাদের শরীরকে শক্তি দেয়, শরীর গঠনে সাহায্য করে এবং সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।”


নুসরাত বলল, “তাই তো খাওয়ার পর আমরা খেলতে পারি!”

ম্যাডাম বললেন, “হ্যাঁ। খাওয়ার পর শরীর খাবার থেকে শক্তি পায়, আর সেই শক্তি দিয়ে আমরা হাঁটি, দৌড়াই, পড়াশোনা করি, খেলি ও নানা কাজ করি।”


ইনানের মতো সকালের নাশতা


ফারজানা ম্যাডাম বোর্ডে একটি সকালের নাশতার ছবি আঁকলেন।

ছবিতে ছিল রুটি, ডিম, কলা ও এক গ্লাস দুধ।

তিনি বললেন, “সকালের নাশতা আমাদের দিনের শুরুতে শক্তি জোগায়।”

আসাদুল্লাহ আল গালিব বলল, “আমি সকালে নাশতা না করে স্কুলে এলে কিছুক্ষণ পরেই দুর্বল লাগে।”

ম্যাডাম বললেন, “কারণ তখন শরীর পর্যাপ্ত খাবার থেকে শক্তি পায় না।”

আনিশা বলল, “তাহলে সকালের নাশতা বাদ দেওয়া ঠিক নয়।”

“একদম ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।


আবু তালহা বলল, “আমি যদি শুধু মিষ্টি খাই, তাহলে কি অনেক শক্তিশালী হয়ে যাব?”

ম্যাডাম হেসে বললেন, “শুধু মিষ্টি খেলে শরীরের সব ধরনের চাহিদা পূরণ হয় না। আমাদের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়।”


বিভিন্ন খাবার, বিভিন্ন উপকার


ফারজানা ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের কয়েকটি খাবারের নাম বলতে বললেন।

নুসরাত বলল, “ভাত।”

আনিশা বলল, “ডাল।”

মেফতাহুল বলল, “ডিম।”

আবাবিল বলল, “মাছ।”

সাফুয়ান বলল, “দুধ।”

মরিয়ম বলল, “শাকসবজি ও ফল।”

ম্যাডাম বললেন, “খুব ভালো। এসব খাবার শরীরকে শক্তি দিতে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।”


তিনি বোঝালেন, ভাত, রুটি, আলু ও অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবার শরীরকে কাজ করার শক্তি দিতে পারে।

ডিম, মাছ, মাংস, ডাল ও দুধ শরীরের বৃদ্ধি ও গঠনে সাহায্য করে।

শাকসবজি ও ফলমূল শরীরকে নানা প্রয়োজনীয় উপাদান দেয় এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।


শক্তির বাক্স


ম্যাডাম একটি বাক্স নিয়ে এলেন।

বাক্সের গায়ে লেখা—

শক্তির বাক্স

তিনি বাক্সের ভেতর থেকে একে একে বের করলেন—চাল, ডাল, একটি ডিম, একটি কলা এবং একটি আপেল।

সবাই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইল।

ম্যাডাম বললেন, “এই খাবারগুলো আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

মেফতাহুল বলল, “বাক্সের মধ্যে তো সত্যিই শক্তি লুকিয়ে আছে!”

ম্যাডাম বললেন, “হ্যাঁ। খাবারের শক্তি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীর তা কাজে লাগাতে পারে।”


দৌড়ের পরীক্ষা


ফারজানা ম্যাডাম সবাইকে মাঠে নিয়ে গেলেন।

তিনি বললেন, “প্রথমে সবাই ধীরে ধীরে হাঁটো।”

সবাই হাঁটল।

“এবার একটু দৌড়াও।”

শিক্ষার্থীরা দৌড়াতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর সবাই হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে এল।

সাফুয়ান বলল, “ম্যাডাম, আমার শরীর গরম হয়ে গেছে!”

মরিয়ম বলল, “আমারও ক্লান্ত লাগছে!”

ম্যাডাম বললেন, “তোমরা দৌড়ানোর সময় শরীরের শক্তি ব্যবহার করেছ। তাই এখন বিশ্রাম ও পানির প্রয়োজন হচ্ছে।”


আসাদুল্লাহ আল গালিব বলল, “এই শক্তি কি খাবার থেকে এসেছিল?”

“হ্যাঁ,” বললেন ম্যাডাম। “আমরা যে খাবার খাই, শরীর তা থেকে শক্তি পায় এবং সেই শক্তি দিয়ে কাজ করে।”


খাবার থেকে শক্তি পাওয়ার সহজ গল্প


ম্যাডাম বোর্ডে একটি সহজ ধাপ লিখলেন—


খাবার → শরীর খাবার গ্রহণ করে → শরীর শক্তি পায় → আমরা কাজ করি


তিনি বললেন, “আমরা খাবার খাই। শরীর খাবার হজম করে। তারপর খাবার থেকে পাওয়া শক্তি শরীরের নানা কাজে ব্যবহার হয়।”

নুসরাত বলল, “তাই খাবার খাওয়ার পর শরীর কাজ করতে পারে।”

“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।


আবু তালহা বলল, “তাহলে আমার পেটের গুড়গুড় শব্দ আসলে শক্তির জন্য আবেদন!”

ম্যাডাম হেসে বললেন, “তুমি চাইলে তাকে ‘শক্তির ঘণ্টা’ বলতে পারো!”


খাবার না খেলে কী হয়?


আনিশা মারজান জিজ্ঞেস করল, “আমরা যদি অনেকক্ষণ খাবার না খাই, তাহলে কী হয়?”

ম্যাডাম বললেন, “তখন ক্ষুধা লাগতে পারে, দুর্বল লাগতে পারে এবং কাজ করতে কষ্ট হতে পারে।”

মেফতাহুল বলল, “তাই পড়াশোনার সময়ও খাবার খাওয়া দরকার।”

“হ্যাঁ,” বললেন ম্যাডাম। “শরীর ও মস্তিষ্কের কাজের জন্যও খাবার থেকে পাওয়া শক্তি দরকার।”


সাফুয়ান বলল, “খালি পেটে অঙ্ক করলে অঙ্কও হয়তো আমার সঙ্গে রাগ করবে!”

সবাই হেসে উঠল।

ম্যাডাম বললেন, “তাই নিয়মিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”


খাবারের শক্তি সবার জন্য


ফারজানা ম্যাডাম বললেন, “শিশু, বড় মানুষ, শ্রমিক, শিক্ষক, কৃষক, খেলোয়াড়—সবারই খাবার থেকে শক্তি দরকার।”

আবাবিল বলল, “কৃষক মাঠে কাজ করেন, তাই তাঁরও শক্তি দরকার।”

“অবশ্যই।”

মরিয়ম বলল, “শিক্ষক পড়ান, তাই তাঁরও শক্তি দরকার।”

ম্যাডাম বললেন, “ঠিক। আর তোমরা পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বেড়ে ওঠার জন্য খাবার থেকে শক্তি পাও।”


সুষম খাবারের প্লেট


ম্যাডাম একটি বড় কাগজে খাবারের প্লেট আঁকলেন।

তিনি বললেন, “একটি ভালো খাবারের প্লেটে বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকা উচিত।”

তিনি প্লেটে ভাত বা রুটি, ডাল, মাছ বা ডিম, শাকসবজি এবং ফল রাখার ছবি আঁকলেন।

“শুধু এক ধরনের খাবার না খেয়ে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো।”

নুসরাত বলল, “তাহলে খাবারের প্লেটও একটা ছোট বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি!”

ম্যাডাম বললেন, “চমৎকার তুলনা!”


খাবার নষ্ট নয়


ফারজানা ম্যাডাম বললেন, “খাবার আমাদের শক্তি দেয়। তাই খাবার নষ্ট করা উচিত নয়।”

আনিশা বলল, “যতটুকু দরকার, ততটুকুই নিতে হবে।”

“ঠিক,” বললেন ম্যাডাম।

ম্যাডাম আরও বললেন, খাবার পরিষ্কারভাবে রাখতে হবে, খাওয়ার আগে হাত ধুতে হবে এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

আবু তালহা বলল, “খাবারকে সম্মান করা মানে নিজের শরীরকেও সম্মান করা!”

ম্যাডাম বললেন, “খুব সুন্দর কথা।”


রহস্যের পরের দরজা


ক্লাসের শেষে ফারজানা ম্যাডাম তিনটি ছবি পাশাপাশি রাখলেন—সূর্য, খাবারের প্লেট এবং একটি চলন্ত গাড়ি।

তিনি বললেন, “সূর্য আলো ও তাপ দেয়। খাবার আমাদের শরীরকে শক্তি দেয়। কিন্তু গাড়ি, চুলা ও অনেক যন্ত্র কীভাবে শক্তি পায়?”

সাফুয়ান বলল, “বিদ্যুৎ থেকে?”

ম্যাডাম বললেন, “কিছু যন্ত্র বিদ্যুৎ থেকে শক্তি পায়। আবার গাড়ি ও চুলার জন্য অন্য ধরনের শক্তির উৎসও লাগে।”

মেফতাহুল জিজ্ঞেস করল, “সেগুলো কী?”

ফারজানা ম্যাডাম বোর্ডে লিখলেন—

জ্বালানি

তারপর বললেন, “পরের অধ্যায়ে আমরা জানব কাঠ, তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি কীভাবে শক্তি দেয়।”


সবাই উত্তেজিত হয়ে উঠল।

আবাবিল বলল, “শক্তির রহস্য তো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে!”

ম্যাডাম হেসে বললেন, “বিজ্ঞানের অভিযান কখনো শেষ হয় না।”


চলবে...


অধ্যায়ের শেষে ১০টি MCQ


১. আমরা খাবার থেকে কী পাই?

ক) শক্তি

খ) শুধু আলো

গ) শুধু শব্দ

ঘ) শুধু পানি

উত্তর: ক) শক্তি


২. খাবার আমাদের কী করতে সাহায্য করে?

ক) হাঁটা, দৌড়ানো ও কাজ করা

খ) অন্ধকার তৈরি করা

গ) সূর্য বন্ধ করা

ঘ) শব্দ থামানো

উত্তর: ক) হাঁটা, দৌড়ানো ও কাজ করা


৩. নিচের কোনটি পুষ্টিকর খাবারের উদাহরণ?

ক) ডিম

খ) পাথর

গ) কাগজ

ঘ) প্লাস্টিক

উত্তর: ক) ডিম


৪. ভাত ও রুটি শরীরকে কী দিতে সাহায্য করে?

ক) কাজ করার শক্তি

খ) ছায়া

গ) শব্দ

ঘ) আলো

উত্তর: ক) কাজ করার শক্তি


৫. ডিম, মাছ, মাংস ও ডাল শরীরের কী কাজে সাহায্য করে?

ক) বৃদ্ধি ও গঠন

খ) শব্দ তৈরি

গ) আলো তৈরি

ঘ) কাপড় শুকানো

উত্তর: ক) বৃদ্ধি ও গঠন


৬. দীর্ঘ সময় খাবার না খেলে কী হতে পারে?

ক) দুর্বল লাগতে পারে

খ) শরীর আরও শক্তিশালী হয়

গ) চোখে বেশি আলো দেখা যায়

ঘ) শব্দ বন্ধ হয়ে যায়

উত্তর: ক) দুর্বল লাগতে পারে


৭. দৌড়ানোর সময় শরীর কী ব্যবহার করে?

ক) শক্তি

খ) কাগজ

গ) মাটি

ঘ) ছায়া

উত্তর: ক) শক্তি


৮. খাবার খাওয়ার আগে কী করা উচিত?

ক) হাত ধোয়া

খ) দৌড়ানো

গ) চিৎকার করা

ঘ) আলো বন্ধ করা

উত্তর: ক) হাত ধোয়া


৯. খাবার নষ্ট করা উচিত নয় কেন?

ক) খাবার আমাদের শক্তি ও পুষ্টি দেয়

খ) খাবার শব্দ তৈরি করে

গ) খাবার সূর্যকে ঢেকে দেয়

ঘ) খাবার বিদ্যুৎ বন্ধ করে

উত্তর: ক) খাবার আমাদের শক্তি ও পুষ্টি দেয়


১০. গাড়ি ও চুলার মতো কিছু কাজে কোনটি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়?

ক) জ্বালানি

খ) খাতা

গ) পেন্সিল

ঘ) ছাতা

উত্তর: ক) জ্বালানি

#শিক্ষা