সুন্দরবনে ফের আগুন: সংরক্ষিত বনাঞ্চল বারবার পুড়ছে
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। শনিবার (২২ মার্চ) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী টহল ফাঁড়ির টেপার বিলে আগুন লাগে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই রোববার (২৩ মার্চ) সকালে পার্শ্ববর্তী ধানসাগর টহল ফাঁড়ির তেইশের ছিলা এলাকায় আবারও আগুন লাগে।
একাধিকবার আগুন লাগার কারণ ও উদ্বেগ: সুন্দরবনে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বন বিভাগ ও পরিবেশবাদীরা। বন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে জেলে ও মৌয়ালদের অসাবধানতাকে দায়ী করা হয়েছে। তবে বনজীবীদের দাবি, এক শ্রেণির অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে বনে আগুন লাগায়। তারা বর্ষায় কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার সুবিধার্থে এই আগুন লাগিয়ে থাকে।
শনিবারের অগ্নিকাণ্ড নেভাতে যাওয়া বনজীবীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে মন মোরগ ধরার ফাঁদ এবং মোরগ-মুরগির পালকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মানুষের অবাধ বিচরণ রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ।
আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে: প্রতিবারই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘কর্ডন’ বা ‘ফায়ার লাইন’ তৈরি করতে বন বিভাগের কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। লোকালয় থেকে দূরে এবং পানির উৎসের অভাবের কারণে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবেশকর্মীদের ক্ষোভ ও আহ্বান: সুন্দরবনে বারবার আগুন লাগার ঘটনায় পরিবেশকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী নূর আলম শেখ বলেন, “সুন্দরবনের কলমতেজী এলাকায় আগুন নতুন কিছু নয়। এর আগেও এখানে আগুন লেগেছিল, যার পোড়া গাছের কয়লার মতো হয়ে যাওয়া গোড়ার অংশ এখনো দৃশ্যমান। প্রতি বছর বর্ষার আগে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়। এ ধরনের কার্যকলাপ যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে।”
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান: সুন্দরবনের এই ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। বন বিভাগকেও আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করা যায়। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।