শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

শেখ হাসিনাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 14 আগস্ট 2024, 01:53 দুপুর • 535 বার পঠিত
শেখ হাসিনাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

রাজধানীর উত্তরা থেকে ৯ বছর আগে গুম করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে এ আবেদন করেন ভুক্তভোগী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এজাহারে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক র‍্যাব ডিজি বেনজির আহমেদ এবং র‍্যাবের অজ্ঞাত ২৫ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোহেল রানা ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বন্ধু আশরাফুল ইসলাম রিংকুর সঙ্গে উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডে স্মাইল গ্যালারির সামনে অবস্থান করছিলেন। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮ টার দিকে একজন হাতে স্মার্টডিভাইসসহ এসে পরিচয় জানতে চান। তিনি পরিচয় দেন। পরে তাঁদের দুজনকে জরুরি কথা আছে বলে একটি গাড়িতে উঠিয়ে নেওয়া হয়। গাড়িতে র‍্যাবের পোশাকে দুজন ও আরও ১০ থেকে ১১ জন বন্দুকধারীকে দেখতে পান। গাড়ি ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চোখ বেঁধে ফেলা হয়। হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। সোহেল রানাকে গাড়িতেই বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। আত্মচিৎকার যেন বাইরে না যায় এ জন্য উচ্চ ভলিউমে ডিজে টাইপের গান চালিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর রিংকুকে অজ্ঞাতস্থানে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন তারা। 

ঘণ্টাখানেক পর সোহেল রানা বুঝতে পারেন তাঁকে কোনো এক বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়া হয়েছে। এ সময় তারা খালেদা জিয়াকে নিয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন। সেখানে গিয়েও তাঁকে শক দেওয়া হয়। দুই ঘণ্টা পর ৩ থেকে ৪ জন এসে তাঁকে ঝুলিয়ে মারতে থাকে। এতে জ্ঞান হারান তিনি। জ্ঞান ফিরলে তাঁকে আবার নির্যাতন করা হয়। তাঁর নির্দেশে নির্বাচন কমিশনে আগুন দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চান। তাঁকে আবারও শক দেওয়া হয় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে তাঁর ওপর নির্যাতন করা হয়। তাঁকে নামাজ পড়তেও বাঁধা দেওয়া হতো। পিঠমোড়া দিয়ে হাতকড়া পরিয়ে অবস্থায় তাঁকে বেঁধে রাখা হতো।

১৩ আগস্ট ভোর ৩ থেকে ৪টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তখনো তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা ছিল। পরে তিনি লোকজনের কাছে জানতে পারেন, তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়িতে আছেন।

বাদী মুক্ত হয়ে জানতে পারেন, শেখ হাসিনার হুকুমে অন্যান্য আসামিরা দেশে এক নায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসন ব্যবস্থা কায়েমের জন্য দেশে গুমের নামে অপহরণ ও বিনাবিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং তিনি নিজেই নিপীড়নের শিকার।