শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

নিউ মার্কেটের ঘটনায় ৩ মামলা, আসামি ১৪০০

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 21 এপ্রিল 2022, 11:44 দুপুর • 259 বার পঠিত
নিউ মার্কেটের ঘটনায় ৩ মামলা, আসামি ১৪০০

নিউ মার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে।  এই তিন মামলায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ প্রায় ১৪ শ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। 

তিন মামলার মধ্যে দুটি মামলা করেছেন নিউমার্কেট থানার এসআই মেহেদী হাসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়ামিন কবির। মেহেদী হাসানের মামলাটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে। ইয়ামিন কবিরের মামলা দুটি দাঙ্গা-হাঙ্গামা, জ্বালাওপোড়াও ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া সম্পর্কিত।

এই সংঘর্ষের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে পথচারী নাহিদ হোসেন মারা যান। তিনি ছিলেন একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারিম্যান। তার মৃত্যুতে তার চাচা মো. সাঈদ হত্যার অভিযোগ এনে অন্য মামলাটি দায়ের করেছেন। নিউ মার্কেট থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতেই মামলা তিনটি রেকর্ড করা হয়।

মেহেদী হাসানের মামলায় আসামি ১৫০ থেকে ২০০ জন, সাঈদের মামলায় ১০০ থেকে ১৫০ জন আসামি। ইয়ামিন কবিরের করা মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে নিউ মার্কেটের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ ব্যবসায়ী ও কর্মী এবং ৬০০-৭০০ কলেজ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার রাতে নিউ মার্কেট এলাকার দোকানে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়। তা নিয়ে সে রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দোকান কর্মচারী-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সারাদিন যান চলাচল বন্ধ থাকে। এলাকার সব মার্কেট বন্ধ থাকে। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অনেকে আহত হন। নাহিদ হোসেন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান।

সংঘর্ষ থামাতে ঢাকা কলেজ কৃর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে। বিকেলের মধ্যে ছাত্রদের আবাসিক হল খালি করে দিতে বলে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কলেজের ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ছাত্রাবাসে থেকে যান।

ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা সংহতি ঘোষণা করেন। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে নিউ মার্কেট এলাকার পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। বিকেল ৩টার দিকে মার্কেটও খুলতে শুরু করে। কিন্তু বিকেল ৫টার আগে ওই এলাকায় ডজনখানেক হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। এরপর আবার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীরা রাতভর বৈঠক করে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

এর মধ্যে মঙ্গলবার সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আহত মোরসালিন নামের এক দোকান কর্মচারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বৃহস্পতিবার ভোরে।