লুহান্সক ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইউক্রেন
সামনে ধরা পড়ার ভয়। তাই লুহান্সক অঞ্চলের শেষ ধরে রাখা জায়গা ছেড়ে পালাতে হতে পারে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে। কারণ, রাশিয়ান বাহিনী এগুতে এগুতে খুব কাছে এসে পৌঁছেছে। তিন মাসের যুদ্ধে তারা এক নতুন অর্জনের সামনে। এ সব কথাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইউক্রেনের একজন কর্মকর্তা।
ইউক্রেনের সেনা দল পালিয়ে গেলে ভ্লাদিমির পুতনের লক্ষ্য আরো সামনে চলে আসবে। পূর্ব ইউক্রেনের লুহান্সক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের পুরোটা তাদের অধিকারে চলে যাবে। তার বাহিনী এই অঞ্চলে পুরো আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে। এই দুই অঞ্চলকে মিলিয়ে বলা হয় দনবাস।
লুহান্সকের গভর্নর সেরহি গাইদাই বলেছেন, রাশিয়ান বাহিনী দনবাসের সবচেয়ে বড় শহর সিয়েভিয়েরোদোনেৎস্কে ঢুকে পড়েছে। এখনো এই শহর ইউক্রেনের অধিকারে আছে। গাইদাই বলেছেন, এর মধ্যে রুশ সেনারা শহরটার ৯০ শতাংশ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
‘‘বিশ্লেষকরা যেভাবে অনুমান করেছেন তেমন দ্রুতগতিতে রাশিয়ানরা লুহান্সক অঞ্চল দখল করতে পারবে না ।’’ গাইদাই টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘‘নিজেদের রক্ষা করতে আমাদের যথেষ্ট শক্তি ও সম্বল দরকার হবে। যদিও এটাও সম্ভব যে চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়া এড়াতে আমাদের পিছু হটে যেতে হতে পারে।’’
রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দাবি করেছে যে লিমান তাদের দখলে আছে। এটা পশ্চিম
সিয়েভিয়েরোদোনেৎস্কের একটা রেলওয়ে হাব। ইউক্রেন বলেছে, লিমানের বেশিরভাগটা এখন রাশিয়ার দখলে। তবে দক্ষিণপশ্চিমের স্লোভিয়ান্সকে তাদের ঢোকার চেষ্টা রুখে দিচ্ছে ইউক্রেন বাহিনী।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমাদের পক্ষে বর্তমান সংগতিতে যতোটা সম্ভব’ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চলছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী থেকে বলা হয়েছে, দোনেৎস্ক ও লুহান্সকে শুক্রবার তারা রাশিয়ার আটটি আক্রমণ ব্যর্থ করে দিয়েছে। এই সময়ে তারা ট্যাংক ও অস্ত্রধারী গাড়ি ধ্বংস করেছে।
‘‘আগ্রাসনকারীরা যদি মনে করে থাকে যে লিমান ও সিয়েভিয়েরোদোনেৎস্ক তাদের হবে তাহলে তারা ভুল করছে। দনবাস ইউক্রেনেরই থাকবে-’’ জেলেনস্কি তার ভাষনে এই কথা বলেছেন।