লঞ্চঘাটে নেমেছে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল
কোটি মানুষের ঢাকায় ঢোকার মুখ ফাঁকা। এখন সবাই ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তাই বের হওয়ার পথেই যতো জট। রেল স্টেশন, বাস স্টেশনের পাশাপাশি মানুষের ঢল নেমেছে লঞ্চঘাটেও। ছুটির প্রথম দিনে ঘরমুখী মানুষের স্রোত দেখা যাচ্ছে রাজধানীর সদরঘাটে।
সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের দিকে সেখানে ব্যাপক হাকডাক। ব্যস্ত মানুষের দল ছুটে আসছেন। ঘাটে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের শতাধিক লঞ্চ সারি সারি করে বাঁধা। এই লঞ্চগুলো যাত্রী বোঝাই করে একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে।
লঞ্চের কর্মীরা তাদের রুটের যাত্রীদের ডাকছেন। যাত্রীরা তাদের লঞ্চ খুঁজে নিয়ে উঠে পড়ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আগেভাগেই পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে লঞ্চ। তাই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তারা রওনা হয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে।
অনেকে সকালে সাহরি খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছেন। যাদের অগ্রিম টিকিট কাটা নেই তাদের টিকিট পেতে যথেষ্ট ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সুবিধাজনক কিছু মিলছে না। আর দীর্ঘ সময় লঞ্চঘাটে পরিবার পরিজন নিয়ে বসে থাকাও িএক ঝঞ্জাট।
এক লঞ্চের টার্গেট করে এসে সেটিতে যেতে ব্যর্থ হচ্ছেন কেউ কেউ। কারণ, ওটার হয়তো টিকিট মিলল না। তাই পরের লঞ্চে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। সকালে এসে তাই দুপুরে রওনা দিতে হবে ঘরের উদ্দেশ্যে।
এটা ছুটির প্রথম দিন। চাপ বেলা বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) আলমগীর কবির বললেন সমস্যা হবে না। তার কথায়, ‘ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় যাত্রীর চাপ আছে। তবে আমাদের যাত্রী অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে ১৫০টিরও বেশি লঞ্চ প্রস্তুত আছে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪০টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া সকাল থেকে যাত্রীদের পৌঁছে দিয়ে ৭০টির মতো লঞ্চ ফেরত এসেছে। এগুলোও যাত্রী নিয়ে
আবারও ঘাট ছেড়ে যাবে।’
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসেও অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে গতকাল ১১০টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।