শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

জিজ্ঞাসা: ইসলামবিরোধী কম্পানির পণ্য বয়কট করা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 09 এপ্রিল 2026, 06:31 বিকাল • 138 বার পঠিত
জিজ্ঞাসা: ইসলামবিরোধী কম্পানির পণ্য বয়কট করা

আমার নাম হাসিবুর রহমান। আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করি। ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের দায়ে বিভিন্ন সময়ে অনেক কম্পানি ও দেশের পণ্য বয়কটের আহ্বান করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব বয়কটের আহ্বানের প্রচার চললেও রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব কম্পানি বা দেশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। আমার প্রশ্ন হলো, পণ্য বয়কট করা যাবে কি না? করলেও এর কোনো উপকার আছে কি না? এই বিষয়ে সাধারণ মুসলমানের করণীয় কি? বিশেষত যখন বাজারে সমমানের বিকল্প পণ্য পাওয়া যায় না।

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, বর্তমান বিশ্বের কিছু দেশ ও শক্তি সরাসরি মুসলিম নিধনের সঙ্গে জড়িত। তারা কোনো আড়াল-আবডাল ছাড়াই মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ঈমান ও আত্মমর্যাদার দাবি হলো তাদের পণ্য বয়কট করা। যেন মুসলমানের অর্থ মুসলিমবিরোধী কাজে ব্যবহূত না হয় এবং ইসলাম বিরোধীরা আর্থিক সুবিধা না পায়। প্রত্যেক মুসলমানের এই প্রতিবাদ ও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা উচিত। এই বিষয়ে অন্যকে আহ্বান জানালে কোনো সমস্যা নেই।

পণ্য বয়কটের প্রভাব কম, অনেক সময় এর দৃশ্যমান কোনো প্রভাব দেখা যায় না, তবুও এর উপকার আছে। এটা এমন এক কার্যকর প্রতিবাদ যাতে সব মুসলমানের অংশগ্রহণের সুযোগ আছে। প্রভাব নেই বলে বয়কট ছেড়ে দেওয়া ওষুধ কাজ করছে না অভিযোগে চিকিত্সা ত্যাগ করার মতো বোকামি। ব্যক্তি ও সমাজের মতো রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধ্যমত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যদি রাষ্ট্র তা না করে তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। 

প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব হলো ইসলাম ও মুসলমানের শত্রুদের প্রতিহত করা, যদি তা সম্ভব না হয় তবে এতকুটু চেষ্টা করা যেন আমার দ্বারা তারা উপকৃত না হয়। পণ্য কিনলে ইসলামের শত্রুরা যে উপকৃত হয় সেটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। 

ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী তত্পরতায় লিপ্ত থাকার পরও কিছু প্রতিষ্ঠান, কম্পানি ও দেশের পণ্য এই অযুহাতে বয়কট করা হয় না যে, এর সমমানের বিকল্প পণ্য নেই। মনে রাখতে হবে, মুসলিম হত্যাকারীদের পণ্য পরিহার করা ঈমান ও আত্মমর্যাদার দাবি, পণ্যের মান নিম্ন হওয়া জাগতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এখন যদি মানের প্রশ্ন তুলে যদি মুসলিম হত্যাকারীদের পণ্য কেনা হয়, তবে ঈমানের ওপর পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যা কিছুতেই কাম্য নয়। 

এই বিষয়ে খুব সতর্ক থাকা জরুরি যে, যে কম্পানি বা দেশের বিরুদ্ধে মুসলিম নিধন বা ইসলাম বিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হতে হবে। শুধু সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ আনা যাবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৪/২৬৮; আহকামুল কোরআন : ১/৩৮৩; ফাতাওয়ায়ে মুফতি মাহমুদ : ১১/২০৪; জাওয়াহিরুল ফিকহ : ৫/৩৫৫)

আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।