শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
প্রধানমন্ত্রীর অফিস - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ - প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় - সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

আশরাফ উল আসাদ • 04 সেপ্টেম্বর 2026, 05:40 সকাল • 222 বার পঠিত
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ


দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাংলাদেশ সরকার ও আইএসডিবি গ্রুপের মধ্যে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। নতুন পরিশোধন সক্ষমতা যুক্ত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশেই পরিশোধন করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই সক্ষমতা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে। শিল্পকারখানা, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, নির্মাণ, নৌপরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম—প্রায় প্রতিটি খাতের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত বা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামা করলে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ে।

একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পর্যাপ্ত পরিশোধন সক্ষমতা। অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা এবং সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করার অর্থনৈতিক কাঠামো এক নয়। দেশের নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা যত বাড়ে, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও তত বাড়ে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ সেই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়; এটি দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো কারণে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতা থাকলে সেই চাপ আংশিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব। একইভাবে বৈশ্বিক বাজারে পরিশোধিত পণ্যের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিলে দেশের নিজস্ব রিফাইনারি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির জ্বালানি চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। শিল্পায়ন, নগরায়ণ, সড়ক পরিবহন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সঙ্গে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।

নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এই চাহিদার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করার সক্ষমতা তৈরি হলে আমদানি ব্যবস্থাপনায় নতুন ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে, যদিও প্রকল্পের প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফল নির্ভর করবে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য, পরিশোধন ব্যয়, উৎপাদন দক্ষতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।

এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিল্প ও অবকাঠামো খাতে এর সম্ভাব্য প্রভাব। একটি বড় রিফাইনারি পরিচালনার সঙ্গে প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, জ্বালানি সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, সরবরাহ ও লজিস্টিকসসহ বহু খাত যুক্ত থাকে। ফলে প্রকল্পটি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

রিফাইনারির আধুনিকায়ন শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় নয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি পরিশোধনের দক্ষতা, পরিবেশগত নিরাপত্তা, শিল্প নিরাপত্তা এবং উৎপাদনের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রযুক্তিগত মান, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা বিশেষ প্রয়োজন।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গেও সম্পর্কিত। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং দেশের জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। অপরিশোধিত তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পরিশোধনের পুরো সরবরাহশৃঙ্খলকে দক্ষ করে তোলা গেলে রিফাইনারির বর্ধিত সক্ষমতার সুফল আরও কার্যকরভাবে পাওয়া সম্ভব হবে।

তবে একটি বড় রিফাইনারি প্রকল্পের সফলতার জন্য শুধু অর্থায়ন নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তি নির্বাচন, ঠিকাদার ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অনুমোদন এবং দক্ষ জনবল—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য বড় অঙ্কের উন্নয়ন অর্থ। তাই এই অর্থের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া সম্ভব হবে।

ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের অর্থায়ন এখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের একটি নতুন মাত্রাও তুলে ধরছে। আইএসডিবি দীর্ঘদিন ধরে সদস্য দেশগুলোর অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন করে আসছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সংস্থাটির সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের। বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির উন্নয়ন অংশীদারত্ব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এই আলোচনার গুরুত্বও কম নয়। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অবকাঠামো, জ্বালানি ও শিল্প খাতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন বাড়ছে। সরকারি সম্পদের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজন আরও বেশি। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, পরিবহন ও কৃষির মতো খাতগুলোর উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন হলে তার প্রভাব সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়ে।

এ কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো—তেল সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন, বন্দর সুবিধা, পরিবহনব্যবস্থা এবং বিতরণ নেটওয়ার্ক—আধুনিক করার প্রয়োজন রয়েছে।

পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন হবে। কোনো একটি দেশ বা নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিভিন্ন উৎসে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি এবং কৌশলগত মজুত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জ্বালানি বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, জ্বালানি দক্ষতা এবং কম কার্বন অর্থনীতির দিকে পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা আগামী বহু বছর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। তাই রিফাইনারি প্রকল্পের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা এবং বিকল্প পরিবহন জ্বালানিতেও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে রিফাইনারি সম্প্রসারণের প্রয়োজন কমে গেছে। বরং বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় শিল্প ও পরিবহন খাতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি বাস্তব প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিবর্তনের জন্যও এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।

এই প্রকল্প বাংলাদেশের শিল্পায়নের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শিল্প খাতের বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন পরিবেশ চান যেখানে জ্বালানি সরবরাহ নির্ভরযোগ্য এবং পূর্বানুমানযোগ্য। দেশে জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়লে শিল্প খাতে সরবরাহের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সড়ক, নৌ ও বিমান পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বড় পরিশোধন অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিমান পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েলের সরবরাহব্যবস্থাও দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তবে জনগণের প্রত্যাশা থাকবে, প্রকল্পটির সুফল যেন কেবল রাষ্ট্রীয় জ্বালানি অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা, আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও প্রতিফলিত হয়।

১ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থায়ন একই সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো খাতের গুরুত্বও তুলে ধরে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে ভবিষ্যতে পরিবহন, বন্দর, বিদ্যুৎ, পানি, শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতেও আরও বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির পরবর্তী পর্যায়ের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা একটি মৌলিক শর্ত। একটি দেশের অর্থনীতি যত বড় হয়, তার জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপও তত বাড়ে। ফলে শুধু বর্তমান চাহিদা পূরণ নয়, আগামী দশকগুলোর সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা এবং দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পূরণের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—এই সুযোগকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায়। সময়মতো প্রকল্প শেষ করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করা, পরিবেশ ও নিরাপত্তা মান বজায় রাখা এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা গেলে ১ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পদে পরিণত হতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু তেল আমদানি বা রিফাইনারির সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কৌশলগত সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

#অর্থনীতি