গোলাপি বাসের কাউন্টার পদ্ধতিতে অসন্তোষ, শ্রমিকদের বিক্ষোভ
ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে চালু হওয়া গোলাপি রঙের বাসের কাউন্টার পদ্ধতি শুরুতেই বাধার মুখে পড়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই পরিষেবা বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে সায়দাবাদ এলাকায় বিক্ষোভ করেন একদল বাস শ্রমিক।
দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জনপদ মোড় অবরোধ করে রাখায় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, বলাকা ও তুরাগ পরিবহনের শ্রমিকরা কাউন্টার পদ্ধতিতে বাস চালাতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, "শ্রমিকদের অভিযোগ, কাউন্টারে বাস চালালে যেখানে-সেখানে যাত্রী তুলতে না পারায় তাদের আয়ের পরিমাণ কমে যাবে। এছাড়া তারা বেতনের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।"
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয় এবং ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিও তোলেন। এসব কারণেই তারা সড়ক অবরোধ করেন।
পরবর্তীতে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বাস মালিকদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর থেকে ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী দুই হাজার ৬১০টি বাসের জন্য গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে কাউন্টার ভিত্তিক ই-টিকেটিং পদ্ধতি চালু করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, "এটি ঢাকার বিশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ। পর্যায়ক্রমে সব রুটে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ঢাকায় নামার পর বিদেশি নাগরিকরা বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা দেখে হতবাক হন। বাসের ধাক্কাধাক্কি ও এলোমেলো যাত্রী তোলার দৃশ্য নিয়ে ট্রল হয়। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সেসব সমস্যা কমিয়ে আনা হবে।"