দশ স্কুল প্রকল্পে ২০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব ফাঁস
আবদুর রাজ্জাক। পদে তিনি ঢাকার সন্নিকটবর্তী মাধ্যমিক দশ স্কুল প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা। তার আরেক পরিচয়, তিনি হিসাববিজ্ঞান পাঠ্যবই ও সাহিত্যের লেখক। তাকেই ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধিসহ অবাধ দুর্নীতির সুযোগ চেয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সাবেক পিডি আমিরুল ইসলাম।
মন্ত্রণালয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগও দিয়েছিলেন। উল্টো ভিত্তিহীন অভিযোগে তাকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তাকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তদন্তে দশ মাধ্যমিক স্কুল প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতির নীলনকশা আয়োজনের প্রমাণও পায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। চাঞ্চল্যকর আরও ভয়াবহ সব তথ্য ফাঁস করে আদালতে এখন বিচারপ্রার্থী হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক।
জানা যায়, দুর্নীতির মহাপরিকল্পনা ফাঁস করে কয়েক মাস ধরে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন আবদুর রাজ্জাক। এমনকি ৮ মাস ধরে খোরপোষ ভাতাও পান না তিনি। জালিয়াতি করে তার খোরপোষ ভাতার টাকা দেয়া হয়েছে আরেকজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এসব কিছুর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন ক্ষমতাধর সাবেক সেই পিডি।
অভিযোগ আছে, দায়িত্বশীল শিক্ষা ক্যাডারের শীর্ষ কর্মকর্তারা দুর্নীতিবাজ এই আমিরুল ইসলামকে আড়াল করতে ব্যস্ত। এ বিষয়ে গঠিত একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রকল্প পরিচালক আমিরুল ইসলাম ও মাউশির সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব দিল আফরোজ বিনতে আছিরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করা হয়েছে।