শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

দেশি-বিদেশি যেকোনো চাপের কাছে বাঙালি নতি স্বীকার করে না

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 08 জুন 2023, 12:03 রাত • 410 বার পঠিত
দেশি-বিদেশি যেকোনো চাপের কাছে বাঙালি নতি স্বীকার করে না


বুধবার ৭ই জুন বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে  আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,  শত  সংগ্রামের বিনিময়ে আমরাই এ দেশে করে গণতন্ত্র এনেছি।  আজ বাংলাদেশে আর্থসামাজিক উন্নতি হয়েছে এই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার কারণে । আজকে আমাদের খাদ্যের  অভাব নেই, খাদ্যের অভাব হবেও না। বাঙালি জাতিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।  

তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রকে দাফন করে  ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, তাদের পকেট থেকে তৈরি সব দলের নেতারাও গণতন্ত্রের কথা বলে, নির্বাচনের কথা বলে, কারচুপির কথা বলে। কারচুপি না তো, তারা তো ভোট ডাকাত। তারা তো গণতন্ত্রও জানেনা, তাদের তো কারফিউ গণতন্ত্র। এরকম ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপদেশ শুনতে হয়, এটাই বাঙালির দুর্ভাগ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আন্দোলন- সংগ্রাম করে আমাদের উৎখাত করবে। একদিকে ভালো হয়েছে যে, এখন যদি জ্বালাও-পোড়াও করে,  অগ্নিসন্ত্রাস করে,  মানুষ খুন করে, তাহলে আমেরিকার ভিসা পাবে না। যাদের কথায় নাচে তারাই ভিসা দেবে না, আমাদের কিছু করার নেই। এবিষয় নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নাই।  আন্দোলন করবে করতে থাকুক, আমি বলি, যতই আন্দোলন করে, করুক! 

তিনি আরও বলেন, নজর রাখতে হবে ওই ১৩, ১৪ বা তারপর ১৫ সালে যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, মানুষকে পুড়িয়ে  হত্যা করেছে, হাত-পা কেটেছে, তা যেন করতে না পারে। নিজের ক্যামেরা, কান সবকিছু সতর্ক রাখতে হবে। তা না হলে উসকানি দিয়ে ওই বাইরের কাছে কাঁদতে থাকবে। জনগণের কথা তারা বিশ্বাস করে না। তারা তো ভাবে যে কেউ অন্য কোথাও থেকে এসে পালকিতে করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। কিন্তু এমনটা কেউ করবেও না, করেও নি।  ব্যবহার করে ফেলে দিবে , কিন্তু দেবে না, এটাই হলো বাস্তবতা।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কিন্তু আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছি। আমরা বাজেট দিয়েছি ।  জ্ঞানী-গুণী, বুদ্ধিজীবীরা বলে, এই বাজেট আওয়ামী লীগ  নাকি কখনো কার্যকর করতে পারবে না। তাই আমি স্পষ্ট করতে চাই, আমরা কতটুকু করতে পারব না পারবো তা বুঝে-শুনে বাজেট করেছি। আমরা যা দিয়েছি, আমরা তা করতে পারবো।

সরকার প্রধান বলেন,  দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে   মানুষের যে কষ্টটা  হচ্ছে, তা কিছু লোকের  মজুতকরণঃ এর কারণে হচ্ছে ।  পেঁয়াজের দাম হু হু করে বেড়ে যায়, যেই পেঁয়াজ আমদানি করব, ওমনি দাম কমে গেল। যারা মজুত করে রেখেছিল, তারা যদি এই অপকর্মটা না করতো তাহলে এই পেঁয়াজ দিয়েই আমাদের হতো।

তিনি বলেন, আমরা মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। সেই বিদ্যুতের এখন সমস্যা হচ্ছে।  লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি। আমি জানি মানুষের কষ্ট হচ্ছে, মানুষের কষ্টটা আমি উপলব্ধি করতে পারি। আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, এই দুই-এক দিনের মধ্যে আরও ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত হবে। এর পর ১০/১৫ দিনের মধ্যে আরও যুক্ত হবে, তারপরে আর কষ্ট থাকবে না।
 বাংলাদেশে ৪১ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা হবে, এটা তো আমরা ভাবতে পারি না। অপরদিকে বৃষ্টি নেই, মানুষের কষ্ট হচ্ছে আমরা সেটা জানি। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে মানুষের কষ্ট লাঘব করা যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত আওয়ামী লীগই করেছে। আজ খুব শুনি বিএনপির নেতারা সমানে বক্তব্য দিয়ে গণতন্ত্র! গণতন্ত্র!  নির্বাচন ! নির্বাচন! করে । এ দেশে হত্যার রাজনীতি আর ভোট কারচুপি, মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়া, এটা তো জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি শুরু করেছে।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার আওয়ামী লীগই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার সম্পর্কে এখন সচেতন, সেই সচেতনতা আমরা সৃষ্টি করেছি। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটচুরি করেছিলো বলেই এদেশের মানুষ ফুসে উঠেছিল, আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনের ফলে খালেদা জিয়া বাধ্য হয়েছিলো ৩০ মার্চ পদত্যাগ করতে, ভোট চুরির অপরাধে।