শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আজ

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 24 মার্চ 2025, 02:26 দুপুর • 140 বার পঠিত
বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আজ

আজ ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— হ্যাঁ! আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি: প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, বিনিয়োগ করুন, বিতরণ করুন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ৩,১৩,৬২৪ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫.২ শতাংশ শিশু। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, দেশে মোট শিশু যক্ষ্মা রোগীর হার প্রায় ১০ শতাংশ। শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ চিকিৎসার আওতায় থাকলেও, ১৭ শতাংশ এখনও শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনশনাক্ত রোগীরাই যক্ষ্মার জীবাণু ছড়িয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে, দ্রুত সকল রোগীকে শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।  

অর্থায়ন সংকটে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি  

গত দুই দশক ধরে যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবায় বিভিন্ন সংস্থা অর্থায়ন করেছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) এই খাতে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ায় যক্ষ্মা প্রতিরোধ কর্মসূচি ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তহবিল সংকটের কারণে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নতুন যক্ষ্মার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।  

সূত্র জানিয়েছে, ইউএসএআইডি-এর অর্থায়নে পরিচালিত বেশ কিছু গবেষণা ও সচেতনতামূলক প্রকল্প ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে যক্ষ্মার সক্রিয় রোগী সন্ধান, স্ক্রিনিং, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।  

সরকারি পদক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত  

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে সরকারকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা যক্ষ্মা নিয়ে গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করলেও, অর্থায়নের অভাবে সেগুলো বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।  

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, "যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে আমরা সফলতা অর্জন করেছি। তবে তহবিল সংকটের কারণে এমডিআর (ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা) রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। সরকার যদি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে বড় কোনো সমস্যা হবে না।"  

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বিভাগীয় যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন জানান, "বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভালো হওয়ায়, ইউএসএআইডির ফান্ড বন্ধ হলেও আমাদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে।"

সংকট মোকাবিলায় করণীয়  

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে সরকারকে তহবিলের নতুন উৎস খুঁজতে হবে। পাশাপাশি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, নতুন রোগী শনাক্তকরণ, ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এছাড়া, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গবেষণা চালিয়ে যেতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।