শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাজারে এখনই রোজার আঁচ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 05 মার্চ 2021, 10:01 দুপুর • 308 বার পঠিত
বাজারে এখনই রোজার আঁচ

আসন্ন রোজা ঘিরে বাড়তি চঞ্চলতা দেখা দিয়েছে ভোগ্য পণ্যের বাজারে। তেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, খেজুর ও অন্যান্য ফলমূলসহ রোজায় চাহিদা বাড়ে, এমন পণ্যের বাড়তি আমদানি হয়েছে। টুকটাক বিক্রি শুরু হয়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে। রোজার মূল কেনাবেচা শুরু হবে শবেবরাতের কয়েক দিন আগে থেকে। সে অনুসারে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যেই দাম বাড়তে শুরু করেছে বেশ কিছু পণ্যের।

এবার করোনার প্রভাব কমে আসায় রমজানের বাজার ধরার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কিছু পণ্যের দাম গত বছরের মতো থাকলেও তেল, চিনি, শসা, লেবু, বেগুনসহ বেশ কিছু পণ্য ভোক্তাকে ভোগাবে। রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে এরই মধ্যে কিছু পণ্যের দম বাড়তে দেখা গেছে।

এবার চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামী ১৪ এপ্রিল রোজা শুরু হতে পারে। রোজার ১৫ দিন আগে শবেবরাত পালিত হয়। সে হিসাবে পুরোদমে রোজার বিক্রি শুরু হতে আর বাকি এক মাসেরও কম।

ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, প্রতি মাসে পাঁচ-ছয় হাজার মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদা থাকলেও রমজানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন লাগে। রোজা ঘিরে আমদানিকারকরা এরই মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টন খেজুর আমদানি করেছেন। দাম কম থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার ১০ শতাংশের মতো আমদানি বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খেজুরের মৌসুম শুরু হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তখন থেকেই আমরা ক্রয়াদেশ দিচ্ছি। রোজার চাহিদার ৮০ শতাংশ আমদানি শেষ। গত বছর আমরা ইরাকি (লুজ) খেজুর বিক্রি করেছি ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। এবার বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কম।’

তবে খুচরা বাজারে দেখা গেল কিছুটা ভিন্ন চিত্র। সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে, যা এক মাস আগেও ছিল ১৩০ থেকে ৫০০ টাকা। গত বছর এই মানের খেজুর বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত বছরের তুলনায় বর্তমানে খেজুরের দাম বেশি রয়েছে ১৮ শতাংশ।

খেজুরের পাশাপাশি রোজায় চাহিদা বাড়ে ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা ও সব ধরনের ডালের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বছরে ভোজ্য তেলের চাহিদা ২০ লাখ টন, রোজার মাসে চাহিদা থাকে আড়াই থেকে তিন লাখ টনের মতো। সারা বছরের জন্য প্রয়োজন হয় ১৮ লাখ টন চিনি। এর মধ্যে তিন লাখ টনের চাহিদা থাকে শুধু রোজার সময়। সারা বছর যেখানে পাঁচ লাখ টন মসুর ডাল লাগে, সেখানে রোজায় চাহিদা থাকে ৮০ হাজার টনের মতো। বছরে ৮০ হাজার টন ছোলার প্রয়োজন হয় দেশে, যার ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় রোজার মাসে। এ সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পেঁয়াজের। ২৫ লাখ টন বার্ষিক চাহিদার পাঁচ লাখ টনই দরকার হয় রোজার সময়।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভোজ্য তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। বাজারে এখন খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা লিটার, এক মাস আগেও যা ছিল ১১২ থেকে ১১৬ টাকা। টিসিবির হিসাবে গত বছর এই সময় সয়াবিন তেলের লিটার ছিল ৮৫-৮৮ টাকা। অর্থাৎ দাম ৩৫ শতাংশ বেশি। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৩০-১৪০ টাকা লিটার। গত বছর ছিল ১০০-১১০ টাকা লিটার। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ। তেলের দাম লিটারে আরো পাঁচ টাকা বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

ছোলার বাজারে এখনো আসন্ন রোজার তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। গত বছরের ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দামেই বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে গত মাসের তুলনায়। বড় দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা কেজি। মাসখানেক আগে ৬৫-৭০ টাকায় কেনা যেত এই মানের ডাল। গত বছর এ সময় এই দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মুগদাসহ বিভিন্ন খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে জানা যায়, তেল, চিনির দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হলেও সচেতন অনেকেই আরো বাড়ার শঙ্কায় কিছু কিছু কিনে রাখছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মঈন স্টোরের বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, সারা বছর এক বস্তা চিনি বিক্রি করতে তিন দিন লাগে। শবেবরাতের পর রোজার প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এক দিনেই এক বস্তা শেষ হয়ে যায়। বেশি চলে ছোলা ও তেল। তবে কয়েক দিন ধরে কোনো কোনো ক্রেতা একটু বেশি করে চিনি, তেল কিনছে। আগে যারা ছোলা কিনত না, এমন অনেকে ছোলাও কিনছে।

বিক্রেতারা বলছেন, চিনির দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। সাদা চিনি মাসখানেক আগেও খুচরায় ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা গেছে। এখন কেনাতেই ৬৫ টাকা পড়ছে। সেগুনবাগিচা বাজারে সাদা ও লাল চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে, মাসখানেক আগে যা ছিল ৬৫-৭০ টাকা। গত বছর এ সময় চিনির দাম ছিল ৬৫-৬৮ টাকা কেজি।

দেশে ভোগ্য পণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার রাজধানীর মৌলভীবাজার। জানতে চাইলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তেল, চিনির চাহিদা সারা বছরই থাকে। তবে রোজায় অনেক বেশি লাগে। এসব পণ্যের চাহিদা একটু একটু করে বাড়ছে। তবে রোজার বিক্রি শুরু হবে শবেবরাতের কয়েক দিন আগে থেকে। তার সপ্তাহখানেক আগে থেকে রোজার পণ্য কিনতে শুরু করব। তখন দাম নির্ভর করবে সরবরাহের ওপর।’ তিনি বলছিলেন, সয়াবিন তেলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। চিনির দামও বাড়তি রয়েছে। রোজায় সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।