শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

যশোরে কোরবানিতে বাইরের পশুর দরকার হবে না

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 29 জুন 2022, 03:25 দুপুর • 289 বার পঠিত
যশোরে কোরবানিতে বাইরের পশুর দরকার হবে না

আসন্ন কোরবানির ঈদে বাইরে থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না যশোরে। জেলায় যে সংখ্যক পশু উৎপাদন হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় বেশি। এমন তথ্য দিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। 

প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর যশোরে সর্বমোট পশু উৎপাদন হয়েছে ৯৫ হাজার ৭শ’১০ টি। কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ৯১ হাজার ১শ’ ৮৮ টির। উদ্বৃত্ত থাকবে ৪ হাজার ৫শ’ ২২ টি। যশোরে উৎপাদিত পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ২৫ হাজার ৬শ’ ৮০, বলদ ২ হাজার ৯৩, গাভী ১ হাজার ৩শ’ ৯৭, ছাগল ৬৫ হাজার ৯শ’ ৮৩ ও ভেড়া ৫শ’ ৫৭ টি। পাশাপাশি কোরবানির জন্য চাহিদাকৃত ৯১ হাজার ১শ’ ৮৮ টি পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ২৪ হাজার ৪শ’ ৮০, বলদ ২ হাজার ৭৮, গাভী ১ হাজার ৩শ’ ৯৭, ছাগল ৬২ হাজার ৬শ’ ৭৬ ও ভেড়া ৫শ’ ৫৭ টি।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, যশোরে কোরবানিতে যে কয়টি ভেড়ার চাহিদা রয়েছে ঠিক সেই কয়টিই উৎপাদন করেছেন খামারিরা! প্রশ্ন হচ্ছে, খামারিরা চাহিদার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানলেন কীভাবে। আবার উৎপাদিত ভেড়ার কোনোটি যদি মিসিং হয় তাহলে চাহিদা পূরণ হবে কীভাবে?

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদর উপজেলায় ১ হাজার ১শ’ ৪৪ জন খামারি ৩ হাজার ৫শ’ ৮৭ ষাঁড়, ৫শ’ ২৯ বলদ, ৩শ’ ১৭ গাভী, ১৫ হাজার ৯শ’ ৪৮ ছাগল ও ৭২ টি ভেড়া উৎপাদন করেছেন। ঝিকরগাছায় ১ হাজার ৩শ’ ৫৬ জন খামারি ৩ হাজার ১শ’ ১৭ ষাঁড়, ৩শ’ ৬২ বলদ, ২শ’ ২৭ গাভী, ৮ হাজার ৫শ’ ৭৩ ছাগল ও ৭৩ টি ভেড়া পালন করেছেন কোরবানীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে। শার্শায় ১ হাজার ১শ’ ৭৫ জন খামারি উৎপাদন করেছেন ২ হাজার ৩শ’ ৫৩ টি ষাঁড়, ১শ’ ৬৬ টি বলদ, ১শ’ নয়টি গাভী, ৭ হাজার ২০ ছাগল ও ৭০ টি ভেড়া। মণিরামপুরে ৪ হাজার ৬শ’ ১০ টি ষাঁড়, ১শ’ ৮০ টি বলদ, ১০ হাজার ৮শ’ ৭০ টি ছাগল ও ১০ টি ভেড়া উৎপাদন করেছেন ১ হাজার ৫শ’ ৪০ জন খামারি। কেশবপুরে ১ হাজার ৩শ’ ১১ জন খামারি ৩ হাজার ৮শ’ ৭২ টি ষাঁড়, ২শ’ ৬৫ টি বলদ, ১১ টি গাভী, ৬ হাজার ৯শ’ ৬১ টি ছাগল ও ৮১ টি ভেড়া পালন করেছেন। অভয়নগরে ৮শ’ খামারি উৎপাদন করেছেন ২ হাজার ৬শ’ ৯৫ টি ষাঁড়, ১শ’ ৪৫ টি বলদ, ১শ’ ৩০ টি গাভী, ৪ হাজার ৫শ’ ৫ টি ছাগল ও ১৫ টি ভেড়া। বাঘারপাড়ায় উৎপাদিত হয়েছে ২ হাজার ৬শ’ ৫৫ ষাঁড়, ১শ’ ৪৫ বলদ, ২শ’ ৩০ গাভী, ৪ হাজার ৯শ’ ৭৫ ছাগল ও ২শ’ ৫ টি ভেড়া। ৯শ’ ৩০ জন খামারি এসব পশু উৎপাদন করেছেন। এবং চৌগাছায় ১ হাজার ৬৪ জন খামারি ষাঁড় ২ হাজার ৭শ’ ৯১ টি, বলদ ৩শ’ ১টি, গাভী ৩শ’ ৭৩ টি, ছাগল ৭ হাজার ১শ’ ৩১ টি ও ভেড়া ৩১ টি পালন করেছেন কোরবানীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে।

গত বছরের তুলনায় এবার খামারিরা পশু বিক্রি নিয়ে বেশি চিন্তিত কারণ এবার পশুর দাম তুলনামূলক বেশি। খাদ্যসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেশি হয়েছে বলে নাছির উদ্দিন নামে একজন খামারি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি দামে পশু বিক্রি করতে না পারলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, ভারত থেকে যাতে কোনো গরু প্রবেশ না করে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। কারণ ভারত থেকে গরু এলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া, যশোরে কোরবানিতে যে সংখ্যক পশুর চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ কারণে বাইরের পশুর প্রয়োজন হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে মাংসের যে দাম সেই তুলনায় কোরবানীর পশুর দাম কম হবে না। ফলে, খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগস্ত হবেন না বলে মনে করছেন এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, এবারের ঈদুল আজহায় সদর উপজেলায় ২০ হাজার ৮১ টি, ঝিকরগাছায় ১১ হাজার ৭শ’ ২৯ টি, শার্শায় ৯ হাজার ৫৩ টি, মণিরামপুরে ১৫ হাজার ২শ’ ৯০ টি, কেশবপুরে ১০ হাজার ৬শ’ ৪ টি, অভয়নগরে ৬ হাজার ৯শ’ ২০ টি, বাঘারপাড়ায় ৭ হাজার ৪শ’ ৩৫ ও চৌগাছায় ১০ হাজার ৭৬ টি পশুর চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়।