যেসব শর্তে মেনে মোটরসাইকেল চলবে মহাসড়কে
দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি নিয়ন্ত্রণে ‘খসড়া মোটরসাইকেল চলাচল নীতিমালা’ করেছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজার মতো উৎসবের আগে-পরে ১০ দিন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। এছাড়া মহাসড়কে মোটরসাইকেলে আরোহী বহন এবং ১২৬ সিসি ইঞ্জিনের নিচে বাইক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
খসড়াটি শিগগিরই অনুমোদন পেতে পারে বলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান উদযাপনের সময় মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রায় মোটরসাইকেলের চলাচল বহুগুণে বেড়ে যায়। এতে মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি হয়। অধিকাংশ দুর্ঘটনায় হতাহত হয়ে থাকে। জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে চলাচলের উদ্দেশ্য থাকলেও বর্তমানে তা মহাসড়কসহ সর্বত্র চলাচল করতে দেখা যায়।
নীতিমালার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৬ নম্বর ধারায় ‘মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ’-এর কথা বলা হয়েছে। ১৪টি উপধারার মধ্যে দুটিতে বলা আছে, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা ইত্যাদি পার্বণকালীন আগে ও পরে মোট ১০ দিন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। মহাসড়কে সর্বনিম্ন ১২৬ সিসি ইঞ্জিন বা সমতুল্য ক্ষমতার (‘ল’ সিরিজ) মোটরাইকেল চলাচল করতে পারবে অর্থাৎ মহাসড়কে ১২৬ সিসি ইঞ্জিনের চেয়ে নিম্ন ক্ষমতার কোনো মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না।
অন্য উপধারায় বলা হয়েছে, মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালনাকালে চালক কোনো আরোহী বহন করতে পারবে না। চালককে নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি (চেস্ট গার্ড, নি গার্ড, এলবো গার্ড, গোড়ালি ঢাকা জুতা বা কেডস, সম্পূর্ণ আঙুল ঢাকা গ্লাভস এবং ফুলপ্যান্ট, ফুল শার্ট) ব্যবহার করতে হবে। হালনাগাদ বৈধ কাগজপত্র (ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন সনদ, ট্যাক্স-টোকেন ইত্যাদি) এবং রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্রেট ও আরএফআইডি ট্যাগ ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো যাবে না।
কুয়াশায় লো-বিম বা ডিপার জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ উপযোগী ধীরগতিতে মোটরসাইকেল চালাতে হবে। দৃষ্টিসীমা বেশি মাত্রায় কমে গেলে বা একেবারেই দেখা না গেলে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ করতে হবে। মোটরসাইকেল চালনাকালে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে। রাতে মোটরসাইকেল চালনাকালে রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে এবং মোটরসাইকেল চালনাকালে ফার্স্ট এইড কিট বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে রোড সেফটির নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নীতিমালাটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমবে। তবে এতে কিছু ভালো দিকের পাশাপাশি অনেকগুলো অযৌক্তিক বিষয় আছে। কেবল বাইকের ওপর নিয়ন্ত্রণারোপ করে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। গণপরিবহনেও শৃঙ্খলা আনতে হবে। সড়ক-মহাসড়কে নজরদারি বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রায় দেশে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনের ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশই মোটরসাইকেল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দুজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মোটরসাইকেল চলাচল নীতিমালাটি’ এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। এতে নীতিমালার বিভিন্ন ধারা-উপধারায় পরিবর্তন আসতে পারে। ঈদ ও পূজার সময় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ১০ দিনের কমও হতে পারে।