যেখানেই যুদ্ধ সেখানেই বাণিজ্য পশ্চিমাদের
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ২ বছরেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের গুটিকয়েক তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আয় বছরে কোটি কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মিয়ানমারে ব্যবসা করলে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে জানিয়ে গত বছরের জানুয়ারিতে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কিন্তু বাস্তব চিত্র এই -
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তেল কোম্পানি হ্যালিবার্টনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মিয়ানমার এনার্জি সার্ভিসেস ২০২১ সালের প্রথম ৯ মাসে মিয়ানমারে ৬৩ লাখ ডলার মুনাফা করে।
টেক্সাসভিত্তিক তেল কোম্পানি বেকার হাগস২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত মিয়ানমারে এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ছিল ২৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান কোম্পানি ডায়মন্ড অফশোর ড্রিলিং ২০২১ সালের প্রথম ৯ মাসে মিয়ানমারের শুল্ক কর্তৃপক্ষকে ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার ফি পরিশোধ করে। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে পরের ছয় মাসে অর্থাৎ ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে আরও ২ কোটি ৪২ লাখ ডলার দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সর্ববৃহৎ অফশোর ড্রিলিং কোম্পানি শ্ল্যামবেজ ২০২১ সালের প্রথম ৯ মাসে মিয়ানমার থেকে ৫ কোটি ১৭ লাখ ডলার আয় করে।
অর্থনীতিবিদগণের মতে বাণিজ্যের এই নতুন কৌশল পশ্চিমাদের এনেদিচ্ছে একচেটিয়া সফলতা। বাজার খোঁজার তথাকথিত ব্যবসায়িক ধারণার বাইরে এসে নিজেই বাজার তৈরী করে ব্যবসা করা - এটাই পশ্চিমাদের কৌশল।
একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়: অস্থিতিশীলতা তৈরী করা-জ্বালানি ও অস্ত্রের অস্বাভাবিক চাহিদার উদ্ভব - নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা দেয়া - যেসকল প্রতিষ্ঠানের সাথে পশ্চিমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক আছে সেগুলোর উপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দেয়া - বাকি বিশ্বকে ভিকটিম দেশে বাণিজ্য না করার পরামর্শ - অস্বাভাবিক চাহিদা থেকে অস্বাভাবিক মুনাফা বের করে নেয়া- যখন মুনাফা কমে আসার সম্ভাবনা তখন বিদ্ধস্ত অবস্থায় সেই দেশকে ফেলে চলে আসা।