শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

যারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেনি তাদের পরিণতি

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 10 আগস্ট 2021, 09:43 সকাল • 483 বার পঠিত
যারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেনি তাদের পরিণতি

আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছেনি কিয়ামতে তাদের পরিণতি কী হতে পারে? 

কুরআনে আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, 

“তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনে হানিফার (তাওহীদ) উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আর রুম, আয়াত: ৩০)

এখানে আল্লাহ বলেই দিচ্ছেন, তিনি মানুষকে তাওহীদের উপর ভিত্তি করেই সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ, প্রতিটি মানুষ জন্মের সময় মুসলিম হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) এর বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, 

“প্রতিটি শিশুই ফিতরতের (ইসলামী বিশ্বাস) উপর জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু তাদের পিতা-মাতা তাদের পরে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজকে পরিণত করে।” (বুখারী)

অর্থাৎ, পরিবার ও পরিবেশের কারণে প্রতিটি শিশু ইসলামী বিশ্বাস নিয়ে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও অন্য বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদে দীক্ষা নেয়।

তবে ইসলামী বিশ্বাসের কিছুনা কিছু প্রভাব তার অন্তরে সবসময়ই বজায় থাকে। ব্যক্তি যদি বিবেকবান হয়, তবে সে তার অন্তরে অবস্থান করা এ প্রভাবকে লালন করে এবং উপযুক্ত সময়ে তার বিকাশে উদ্যোগ নেয়।

রাসূল (সা.) এর সমকালীন এরূপ একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি রাসূল (সা.) এর নবুওয়্যাতের আগেই ইন্তেকাল করেন।

যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল নামের এ ব্যক্তি মক্কায় তৎকালীন অধিবাসীদের ধর্মীয় আচার-প্রথা ও মুর্তিপূজার কঠোর বিরোধী ছিলেন। মক্কাবাসীদের কাছে তিনি তাদের বিশ্বাসের ত্রুটির প্রচার করতেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন মূর্তির সামনে গিয়ে তাদের উপহাস করতেন, যার নিজেরই নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতা নেই, সে আমাকে কীভাবে রক্ষা করবে। 

হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বলেছেন, যায়েদ ইবনে আমর কাবা প্রাঙ্গণে বসে প্রায়ই আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করতেন,

‘হে আল্লাহ! যেভাবে তোমার ইবাদত করলে তুমি খুশি হয়, আমি তা জানলে সেভাবেই তোমার ইবাদত করতাম। কিন্তু আমি জানিনা। তুমি আমাকে পথ দেখাও।’ 

এছাড়া তিনি কাবা তাওয়াফ ও কাবার প্রাঙ্গনে সিজদা করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতেন।

তৎকালীন প্রথা অনুসারে সে যুগে কোনো পিতা যদি তার মেয়েকে জীবন্ত কবর দিতে চাইতো, তখন যায়েদ ইবনে আমর সে মেয়েকে রক্ষা করে নিজে লালনপালন করতেন।

সত্যের সন্ধানে থাকা যায়েদ বিভিন্ন স্থানেই ভ্রমণ করেছেন। ইহুদি ও খ্রিস্ট ধর্ম সহ বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের সাথে তিনি আলোচনা করেছেন। কিন্তু তাদের সাথে আলোচনায় তার সত্যপিপাসু মন কখনোই সন্তুষ্ট হয়নি।

রাসূল (সা.) যখন নবুওয়্যাত লাভ করেন, তখন তিনি মক্কার বাইরে ছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে তিনি মরুভূমির ডাকাতদের আক্রমণে নিহত হন।

পরবর্তীতে যায়েদের পুত্র হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাসূল (সা.) কে তার পিতার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসূল (সা.) বলেন, কিয়ামতের দিন অন্য সব মানুষ যখন তাদের নবী-রাসূলদের পেছনে সমবেত হবে, তখন যায়েদ একাই এক জাতি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন। অর্থাৎ, কোনো নবী-রাসূল ছাড়াই সৎব্যক্তিদের কাতারে আল্লাহ যায়েদ ইবনে আমরকে স্থান দেবেন।

সুতরাং নবী-রাসূলের পথ প্রদর্শন ছাড়া কোনো সুবিবেকবান ব্যক্তি যদি তার অন্তরের তাওহীদের মূল উৎসকে  লালন করে, তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে স্থান দিতে পারেন।

আল্লাহ আমদের সকলকে সৎ পথে চলার শক্তি দান করুন।