ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা
দেশজুড়ে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে কিশোর গ্যাং। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের দলবদ্ধ বেপরোয়া আচরণ ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সমাজে। এরা বিভিন্ন নামে নানা ধরনের গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধে।
তাদের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছে নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ। একই সাথে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেড়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও। রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, বাড্ডাসহ ঢাকার ৪০টি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে গত ১৭ বছরে ১২০ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে গত দুই বছরেই কিশোর অপরাধীদের হাতে মারা গেছে ৩৪ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অনুশাসন কমে যাওয়া, প্রযুক্তির অপব্যবহার, কিশোরদের রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের গ্যাং কালচার গড়ে উঠছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনে ঘাটতি, আইনি জটিলতার কারণে কিশোর অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে কিশোর অপরাধী নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে এর পাশাপাশি অভিভাবকদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ তাদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কেউ স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছে, কেউ বা এখনো পড়ছে। এদের সাথে যোগ হচ্ছে কিশোর বয়সের ছিনতাই ও মাদক মামলার আসামিরাও। এলাকায় আড্ডা আর খেলার ছলে অনেক কিশোরই জড়িয়ে পড়ছে গ্যাং কালচারে। এরপর জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবন, মাদক কারবারি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুনাখুনিসহ নানা অপরাধে। প্রকাশ্যে রাস্তায় গুলি করতেও তাদের হাত কাঁপছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং পরিবারের নজরদারি ও মূল্যবোধ দিয়ে এই কিশোর অপরাধ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।
সম্প্রতি কদমতলী ও মুগদায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে এমন দু’টি খুনের ঘটনায় পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। মুগদার মান্ডায় হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যারা গ্রেফতার হয়েছে, তারা কিশোর। ‘সালাম’ না দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ দ্বন্দ্বে জড়ায় এবং এতে হাসান নামের একজন খুন হয়। এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মামলা হয়েছিল। তাদের ছয়জন গ্রেফতার হয়েছে। এর বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।