ভয়াবহ তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৬ হাজার ফ্লাইট বাতিল
ভয়াবহ তুষারঝড় শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির পূর্ব উপকূলজুড়ে আঘাত হানা এই তুষারঝড় গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। ইতোমধ্যেই পাঁচটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং এসব এলাকায় শক্তিশালী ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তুষারঝড় কবলিত এলাকাগুলোতে হাজারও ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রোববার (৩০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের কিছু কিছু এলাকা যে পরিমাণ বরফে ঢেকে যেতে পারে সেটি হবে ‘ঐতিহাসিক’। এছাড়া উপকূলবর্তী ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিকূল এই আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে তাপমাত্রা আরও অনেক কমে যেতে পারে।
এমন অবস্থায় হাজারো ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বাতিল করা হয়েছিল ১ হাজার ৪০০–এর বেশি ফ্লাইট।
নিউইয়র্কে লং আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক সিটি ও হাডসন ভ্যালি এলাকায় প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে পুরু স্তরের বরফ জমেছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ করে এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, ‘আজ রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরুন। এরপর সপ্তাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করুন। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।’
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝড়ের তীব্রতা দ্রুত বাড়তে পারে। ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার এমন প্রবণতাকে মাঝে মাঝে ‘বোমা ঘূর্ণিঝড়’ বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে অপর একটি শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়েছিল উত্তর আমেরিকার পূর্বাঞ্চল। ঝড়ের কারণে জর্জিয়া থেকে কানাডা পর্যন্ত তুষারে ঢাকা পড়েছিল। এতে হাজারো ঘরবাড়ি বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং হাজারো ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল।