শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ভোক্তার কাঁধে আর না চাপুক দাম বাড়ার বোঝা

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 15 এপ্রিল 2025, 09:24 সকাল • 296 বার পঠিত
ভোক্তার কাঁধে আর না চাপুক দাম বাড়ার বোঝা

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক বসছে। ব্যবসায়ীরা লিটারে ১৪ টাকা করে সয়াবিন এবং ১২ টাকা করে পাম তেলের দাম বাড়াতে চাইলেও, রোববার থেকেই কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেরা দাম বাড়িয়ে কার্যকর করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানাগুলোর মালিকদের সংগঠন লিখিতভাবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। তাদের যুক্তি, ৩১ মার্চ শেষ হওয়া শুল্ক ও কর অব্যাহতির মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। তাই দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, দীর্ঘ সময় কর অব্যাহতির সুযোগ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। ফলে এনবিআরের পক্ষ থেকে শুল্ক ফেরানোর পথেই হাঁটা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এর বোঝা সরাসরি ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম বেড়ে ৯২২ টাকা হতে পারে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়িয়ে ১৬৯ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল এবং মার্চ মাসে কিছুটা কমতিও দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকার রাজস্ব বাড়াতে চাইলে তা বিত্তবানদের কাছ থেকে আয়কর আদায়ের মাধ্যমে করা উচিত। দরিদ্র মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো অমানবিক।

পূর্ব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রোজার আগে ব্যবসায়ীরা খোলা তেলের দাম বাড়িয়েছেন এবং বোতলের তেল নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায়নি। তাই আগাম মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আজকের বৈঠকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হবে না বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা পড়ে। বিশেষ করে এখন যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেই, কর্মসংস্থান বাড়েনি, এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত—তখন সরকারের উচিত ভোক্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।