ভারতের উচিত ‘সুযোগের সদ্ব্যবহার’ করা: প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে শামা ওবায়েদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমবে কিনা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে, সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লি থেকে ‘কথা বলার সুযোগ’ বন্ধ করার বিষয়ও মনে করিয়ে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে, তা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমার সুযোগ হিসাবে সরকার দেখছে কি-না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি বলি, যে কোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে।
“সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে, সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। আমরা তো আগেই বলেছি যে, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে কথা বলে, সেটা বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না, নেয় না।”
বাংলাদেশের মানুষ ‘ভালোভাবে না নেওয়ার’ কারণ হিসাবে ওবায়েদ বলেন, “জুলাইয়ের (জুলাই অভ্যুত্থান) কথা এখনো মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ হতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর জাপান এবং ভারতের সফরের দিনক্ষণ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবে জাপান সফর করবেন, এখনও সেটার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। দুই দেশের জন্য যেটা উপযুক্ত সময়, সেটা নির্ধারিত হবে।
“প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারত সফরসহ অন্যান্য সফর কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অবশ্যই, দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করেই সেটা চূড়ান্ত হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে সরকারের সবসময় ‘ইতিবাচক’, তুলে ধরে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে।”
প্রধানমন্ত্রীর অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যস্ততার বাইরে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সময় মিললে যে কোনো দেশে সফর হতে পারে বলে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ বলেন, “তার মধ্যেই যদি সবকিছু মেলে অবশ্যই ভারত সফর হবে, জাপান সফর হবে, সব সফরই হবে। সেটা দেখা যাক।
“আমি আবারও বলছি, সব দেশ সফরের ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সরকার পজেটিভ। কিন্তু এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময়ের উপরে এবং দুই দেশের (মধ্যে) আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে, সেটার উপর।”
প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যাবেন, নাকি দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তো অনেক দেরি। এক মাসের মধ্যে অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে।”