শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ভারতের ওয়াকফ বিল বাতিলের দাবি মামুনুল হকের দলের

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 05 এপ্রিল 2025, 08:38 রাত • 751 বার পঠিত
ভারতের ওয়াকফ বিল বাতিলের দাবি মামুনুল হকের দলের

শনিবার (৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা ভারত সরকারের প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫-এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, এই বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার, ঐতিহাসিক আমানত এবং সংবিধানপ্রদত্ত সুরক্ষার বিরুদ্ধে একটি “ন্যাক্কারজনক হস্তক্ষেপ”।

নেতারা জানান, নতুন সংশোধনীতে ওয়াকফ বোর্ডের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, অমুসলিমদের (বিশেষ করে হিন্দুদের) সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি এবং কোন সম্পত্তিকে ওয়াকফ ঘোষণা করা হবে—তা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। অথচ ঐতিহাসিকভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি শুধুমাত্র মুসলমানদের ধর্মীয়, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, এই বিলের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ওয়াকফ আইনকে দুর্বল করে মুসলিম সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও দখলের আইনি পথ তৈরি করা।

নেতারা আরও দাবি করেন, ভারতের মুসলমানরাই এই দেশের নির্মাতা এবং আজকের ভারত যা কিছু নিয়ে গর্ব করে তার অনেকটাই মুসলিম শাসকদের অবদান। বর্তমানে ভারতে প্রায় ৩০ কোটির বেশি মুসলমান বাস করে এবং তাদের অধীনে প্রায় ৯ লাখ স্থাপনা রয়েছে, যার মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ একর। এসব ওয়াকফ সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শহর ও নগর এলাকায় ওয়াকফ বোর্ড হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে বেশি জমির মালিক প্রতিষ্ঠানের একটি। সামগ্রিকভাবে এটি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও রেলওয়ের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ভূমির মালিক। নেতাদের অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী উগ্র-বিজেপি এই সম্পত্তির প্রতি আজন্ম লোভ লালন করে আসছে। এরা ইতোমধ্যে ভারতের একাধিক স্থানে মন্দিরসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের জন্য ওয়াকফ করা মুসলিম সম্পত্তি জবরদখল ও অবৈধ অধিগ্রহণ করেছে।

নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মুসলিম বিদ্বেষী বিজেপি কর্তৃক ওয়াকফ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ধর্মীয় সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।”

তারা দাবি করেন, ওয়াকফ সম্পত্তি কেবল জমি বা ভবন নয়—এটি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, ইতিহাস এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এসব সম্পদ মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও গরীব-দুঃখীদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিবৃতির শেষাংশে নেতারা বলেন, “ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি অবিচার এবং সামাজিক ঐক্যের পরিপন্থী। ভারত সরকারকে অবিলম্বে এই বিল বাতিল করতে হবে এবং মুসলমানদের মতামত ছাড়া ওয়াকফ ব্যবস্থাপনায় কোনো সিদ্ধান্ত আরোপ করা যাবে না।"