ভারতীয় পেঁয়াজ বর্জন ব্যবসায়ীদের
দেশে এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই। এ মধ্যেই ভারতে মোদী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিল্লিকে খুশি করতে পহেলা জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে তিনটি স্থল বন্দর ও চট্টগ্রাম নৌ বন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানী শুরু হয়। ফলে বিপদে পড়ে যায় দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী লাখ লাখ কৃষক।
গোটা চিত্র তুলে ধরে ‘ভারতের পেঁয়াজকে না বলো’ এবং ‘ভারতের পেঁয়াজ আমদানীতে দেশের পেঁয়াজ চাষীদের সর্বনাশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর শুরু হয় ভারতীয় পেঁয়াজ বর্জনের প্রক্রিয়া।
রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার হিসেবে পরিচিত কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা ভারতীয় পেঁয়াজ বর্জন করেছেন। তারা ভারত থেকে আমদানী করা পেঁয়াজ গোডাউন ও দোকানে তুলছেন না। চট্টগ্রাম নৌ বন্দরে হাজার হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ জাহাজে পড়ে রয়েছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ওই সব পেঁয়াজ লোকসানের ভয়ে উঠাচ্ছেন না। দিনাজপুরের হিলি, সাতক্ষিরার সেনাদিঘী, এখন চলছে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের হাটবাজারে বিপুল পরিমান দেশি পেঁয়াজ উঠেছে। বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে পণ্যটির দাম কমেছে। তাই বেশি লাভের আশায় অতি লোভী ব্যবসায়ীরা ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করলেও রাজধানীর কারওয়ানবাজারে নেই ভারতীয় কোনো পেঁয়াজ। বিক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি; তাই বাজারে আনছেন না তারা। বাজার ঘুরে তাদের দাবির সত্যতাও মিলল। আবার কেউ বলছেন, মোদী সরকারকে খুশি করতে এবং বেশি বেশি লাভ করতে যারা ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানী করছেন তাদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেয়ার জন্য আমদানী করা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি।