তুরস্ক-সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৪শ ছাড়াল
তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার ৪৭২ জন নিহত হয়েছেন। এতে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
আজ সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৮। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও কয়েকটি কম্পন টের পাওয়া গেছে।
জানা যায় তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের কোটি মানুষ ভূমিকম্পটি টের পেয়েছেন। এর কেন্দ্রস্থল তুরস্কের শহর গাজিয়ান্তেপে।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, তুরস্কে ভূমিকম্পে ৯১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৮৩ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা বেড়ে কত হতে পারে, তা অনুমান করতে পারছেন না তিনি।
আল জাজিরা জানিয়েছে, সিরিয়ায় ৫৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এটি তুরস্কে ৮৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালি ভূমিকম্প। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূকম্পনবিদ স্টিফেন হিকস বলেন, এর আগে ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহাণি ঘটে।
তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৪০টি স্বল্পমাত্রার ভূকম্পন হয়েছে।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থলের কাছে সিরিয়ার লাখো শরণার্থীর বাস। তুরস্ক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশ। দেশটিতে প্রায় ৩৭ লাখ সিরিয়ান নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে।
এখনো পর্যন্ত অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
ইতালিতে সুনামি সতর্কতা জারি
ইতালির দক্ষিণ অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান টুইট করে ভূমিকম্পের ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আশা করছি দ্রুতসম্ভব আমরা কম ক্ষয়ক্ষতিসহ দুর্যোগটি একসঙ্গে কাটিয়ে উঠব।
তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য ইউনিট সতর্ক রয়েছে।