টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতী নদীতে নির্মিত দুই লেন সেতু নিয়ে আশা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া। এলজিইডি মধুমতী নদীর লেবুতলা পয়েন্টে একটি দুই লেনের সেতু নির্মাণ করেছে। এই সেতুটি দুই উপজেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উম্মোচন করেছে।
দুই উপজেলার পাটগাতী, ডুমরিয়া, গোপালপুর, পিঞ্জুরী ও ঘাঘর ইউনিয়নের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অনুন্নত।
এছাড়া ওই অধিদপ্তর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড থেকে কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ ২৮ কিলোমিটার সড়ক ২৪ মিটার প্রশস্ত করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই সড়কের ১০ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের মধ্যে ওই সড়কের কাজ সম্পন্ন হবে বলেও গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক জানিয়েছেন।
এলজিইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মধুমতী নদীর লেবুতলা পয়েন্টে ২২৫ মিটার দীর্ঘ ২ লেন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর দু’পাশে এপ্রোচের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া আমরা সেতুর সাথে ২৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে দিচ্ছি। ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়ে গেছে। দ্রুত তারা উপজেলা সদর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারছেন। ওই এলাকার উৎপাদিত ধান, পাট, সবজি, মাছ, মাংস সরাসরি ঢাকা পাঠাতে পারছেন। ফসলের ন্যয্য মূল্য পেয়ে ৫ ইউনিয়নের ৫০ হাজার কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। উন্নত যোগাযোগের ফলে প্রতি বছর এসব এলাকার ৫০ হাজার কৃষক ২০০ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বর শেখ নজরুল ইসলাম (৪০) বলেন, আমাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে দুই লেন ব্রিজ করা হয়েছে। ব্রিজ অনেক উচু করা হয়েছে। ব্রিজের নীচ দিয়ে নৌপথে জাহাজ ও বার্জে কমখরচে পণ্য পরিবহন করা যাবে। সেই সাথে প্রশস্ত রাস্তার কাজ চলছে। রাস্তা ব্যবহার করে এ অঞ্চলের মানুষ দ্রুত উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারছেন। এই সেতু ব্যবহার করে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার কৃষক সহজে তাদের উৎপাদিত ধান লেবুতলা অটোরাইচ মিলে বিক্রি করতে পারবেন। এতে আমর এলাকার কৃষক ধান সহ উৎপাদিত পন্যের ন্যয্য মূল্য পাবেন। ব্রিজ ও সড়ক এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার চিত্র বদলে দিয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কাকইবুনিয়া গ্রামের গৃহবধূ মধুমালা বিশ্বাস (৬২) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আমাদের ব্রিজ ও সড়ক করে দিয়েছেন। এ কারণে বাড়ির আঙ্গিনায় উৎপাদিত শাক, সবজি ও ফলমূল দ্রুত বাজারজাত করতে পারছি। এসব বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের অন্যান্য খরচ মেটাতে পারছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাই।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শ্যাওড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক রতন বিশ্বাস (৫০) বলেন,আমাদের গ্রাম নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত। তাই এখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর ২০০৯ সালে আমাদের এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ও অবকাঠামো নির্মাণ করে দিয়েছে। এ কারণে আমরা এখন অন্ধকার থেকে আলোর পথযাত্রী হয়েছি। উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় সামিল হতে পারছি। পদ্মা সেতু আমরাও ব্যবহার করতে পারছি। সেই সাথে উৎপাদিত কৃষি পণ্য, মৎস্য ও সাংস বাজারজাত করে বেশি দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছি। পদ্মা সেতু ব্যবহার করে মালামাল সরাসরি ঢাকা পাঠাতে পারছি। এতে আমাদের আয় বেড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা ভাল আছি। এ জন্য উন্নয়নের রূপকার বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।