শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল - বাংলাদেশি ৪ ট্রাক ফেরত পাঠাল ভারত

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 10 এপ্রিল 2025, 11:58 দুপুর • 331 বার পঠিত
ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল - বাংলাদেশি ৪ ট্রাক ফেরত পাঠাল ভারত

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের জেরে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের গেট থেকে চারটি রপ্তানিপণ্যবোঝাই বাংলাদেশি ট্রাক ফেরত পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ট্রাকগুলো ফেরত পাঠায়। পরে ট্রাকগুলো ঢাকায় ফিরে যায়।

২০২০ সালের ২৯ জুন বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় এতদিন ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে আসছিল বাংলাদেশ। এই সুবিধার মাধ্যমে ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মতো দেশে স্থলবন্দর হয়ে পণ্য রপ্তানি হতো।

তবে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (CBIC) এই সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দেয়। এরপর বুধবার ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে সব পণ্যবোঝাই ট্রাক ইতিমধ্যেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে, তাদের দ্রুত চলে যেতে হবে। তবে যেগুলো এন্ট্রির আগেই এসেছে, তাদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির ভিত্তিতে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, চারটি রপ্তানি পণ্যবোঝাই ট্রাক ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে গেলে সেগুলো ফেরত পাঠানো হয়। ট্রাকগুলো ঢাকার ডিএসভি এয়ার অ্যান্ড সি লিমিটেডের ছিল।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় কার্পাস ইস্যু না করায় ট্রাকগুলো রিসিভ করা হয়নি।

রপ্তানিকারকরা জানান, ভারতের অবকাঠামো ও রোড নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে কম খরচে ও দ্রুত সময়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানি সম্ভব হচ্ছিল। এখন এই সুবিধা বাতিল হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা।

এ ছাড়া পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরাও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ট্রাক বেনাপোল হয়ে পেট্রাপোলে পণ্য নামিয়ে ফিরে যেতো। এই পরিবহন কার্যক্রম থেকেও বিপুল পরিমাণ আয়ের উৎস তৈরি হয়েছিল, যা এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরাও এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ হলে শুধুমাত্র পেট্রাপোল বন্দরে প্রায় ৪০ শতাংশ আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।