টিসিবির ভর্তুকি ও ভোগান্তি: ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি বাণিজ্য উপদেষ্টা
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে বছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
আজ বুধবার রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবের গল্ফ গার্ডেনে ‘টিসিবির সঙ্গে ব্যবসা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ তথ্য জানান।
সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা টিসিবির কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ অভিযোগ করেন, টিসিবির কাছ থেকে বিল পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কেউ বলেন, দরপত্রের অনুমোদন পেতে বিলম্ব ঘটে।
এছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ী টিসিবির পণ্য সংগ্রহে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (Direct Procurement Method–DPM) পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (Open Tender Method–OTM) চালুর পরামর্শ দেন।
একজন ব্যবসায়ী প্রশ্ন তোলেন, “টিসিবি নিজেই কেন সরাসরি আমদানি করছে না?”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা, চট্টগ্রাম চেম্বারের যুগ্ম সচিব নুরুল আবছার চৌধুরী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ নোমান।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সুবিধাবঞ্চিত কোটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে টিসিবির কার্যক্রমে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রচেষ্টার কারণে গত রমজানে বাজার ব্যবস্থা ভালো ছিল। একটি দুর্বৃত্তায়িত ব্যবস্থা যা অনেক দুর্বৃত্ত তৈরি করেছিল। সেখান থেকে বাজারের যে উত্তরণ, তার জন্য অনেক দপ্তর কাজ করেছে। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা ও আস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার কর্মকালে টিসিবিকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে চাই।’
সংলাপে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশই ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক। ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম, আর বড় শিল্পগোষ্ঠীর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।