তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন
টানা তিন মাস বন্ধের পর পর্যটক, বনজীবী ও মৎস্যজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্যারাবন সুন্দরবন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে উঠে যাবে সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা।
ওই দিন থেকে পুনরায় পর্যটকরা যেতে পারবেন বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনে। আর বনের ওপর নির্ভরশীল জেলেরাও যাবেন তাদের জীবিকার অন্বেষণে।
ইতোমধ্যে জেলে, ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ ও বোটচালকরা সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনুরূপভাবে সুন্দরবনের আশপাশ এলাকার ইকো কটেজগুলোও পর্যটক বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন খুললেও পর্যটক, বনজীবী ও মৎস্যজীবীদের মনে নতুন করে দস্যু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বনজীবীদের অভিযোগ, তিন মাস পর বনে প্রবেশ করার সুযোগ পেলেও মনে রয়েছে দস্যু আতঙ্ক।
বনে প্রবেশ করলেই বিভিন্ন দস্যু দলকে চাঁদা বা বখরা দিতে হয়।দীর্ঘ তিন মাস পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জাহাজ মালিক, ট্যুর অপারেটর, গাইড, মাঝি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, নদীপথের পরিস্থিতি এবং সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে ২০২৬-২৭ সালের সুন্দরবন পর্যটন মৌসুমটি পর্যটন খাতের জন্য একটি ভালো মৌসুম হয়ে উঠবে।
সুন্দরবনের জনপ্রিয় পর্যটন জাহাজগুলোর মধ্যে এমভি আলাস্কা, এমভি দ্য ক্রাউন, এমভি শেরখান দুই দশমিক শূন্যসহ আরও বেশ কয়েকটি জাহাজ এবারের মৌসুমের শুরুতেই তিন দিন দুই রাতের সুন্দরবন সাফারি পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ বন বিভাগের ইকো-ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্মেও এসব জাহাজের তালিকা ও তিন দিন দুই রাতের পর্যটন প্যাকেজের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ট্রাভোওয়ের ফাউন্ডার ও সিইও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,‘দীর্ঘ বিরতির পর ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন জাহাজ পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুত। আমরা আশা করছি, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবারের সুন্দরবন মৌসুমটি পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবার জন্য ভালো যাবে। একইসঙ্গে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে পর্যটক এবং সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন, টোয়াসের সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, ‘সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সিঁড়ি ও ঘাটগুলো পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা প্রয়োজন। একদিকে ওঠা এবং অন্যদিকে নামার ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটকদের ভোগান্তি কমবে।’
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে জুন, জুলাই ও আগস্ট, এই তিন মাস পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য বনের স্বাভাবিক পরিবেশ, মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালায়।’
সুন্দরবনে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর তিন মাস সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। শুধু মাছ শিকারই বন্ধ নয়, নির্দিষ্ট এ সময়জুড়ে বনের অভ্যন্তরে ও অভয়ারণ্যে পর্যটকদের প্রবেশও বন্ধ থাকে।