তেঁতুলতলা মাঠে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি
আন্দোলন করে ফিরে পাওয়া মাঠে এলাকার লোকজন পড়বেন ঈদের নামাজ। আগামীকাল মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর। আর এদিন সকাল ৮টায় রাজধানীর কলাবাগানের আলোচিত এই তেঁতুলতলা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। অন্তত ৫ হাজার মানুষের এই জামাতে অংশ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এর আগেও তেঁতুলতলা মাঠে ঈদের জামাত হয়েছে। কিন্তু এতো আনন্দের সঙ্গে হয়নি। মাঠের সামনে এখন ঈদ মোবারক লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো। এলাকাবাসীর পক্ষে এখানে ঈদের জামাতের আয়োজন করছে উত্তর ধানমন্ডি মসজিদ কমিটি। ব্যানার টাঙানো হয়েছে। বেশ একটা সাজসাজরব পড়ে গেছে।
এর আগে কোনো ঈদে এখানে প্যান্ডেল করে নামাজ আদায় করা হয়নি। এবার পুরো মাঠ প্যান্ডেল করা হচ্ছে। আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শামিয়ানা টানানোর জন্য বাঁশের বড় অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেছে।
কলাবাগান থানা করার জন্য চারদিকে দেওয়াল তুলেছিল পুলিশ। তাতে অবশ্য মাঠটাকে এখন আরো সুরক্ষিত লাগছে। এলাকাবাসী মাঠ থেকে সব ধরনের জঞ্জাল সরিয়ে ফেলেছে। কোনো ময়লা নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটা মাঠ।
জানা গেল, এলাকার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা খুব ভালোভাবে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই শেষে মাঠটা এলাকাবাসীর জন্য থেকেছে। এখানে তাই খেলাধুলার পাশাপাশি আরো কিছু করার লক্ষ্য আছে স্থানীয়দের। ঈদের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই মাঠ নিয়ে বেশ কিছুদিন হলো আন্দোলন চলছিল। আগে এটা এলাকাবাসীর জন্য উন্মুক্ত মাঠ ছিল। কিন্তু পুলিশ এটা বরাদ্দ নেয়। সিদ্ধান্ত হয় এখানে কলাবাগান ধানা হবে। কিন্তু স্থানীয়রা আন্দোলনে নামে।
গত ২৪ এপ্রিল মাঠ রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করা সৈয়দা রত্না ও তাঁর কিশোর ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর ১৩ ঘণ্টা কলাবাগান থানায় আটকে রাখে। তারপর প্রতিবাদের মুখে মুচলেকা দিয়ে মধ্যরাতে ছেড়ে দেয়।
পরে আন্দোলনকারীরা মাঠ বাঁচাতে আরো উদ্যোগী হন। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। শেষে ২৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, তেঁতুলতলা মাঠে আর কোনো নির্মাণকাজ হবে না। এটা উন্মুক্ত থাকবে। আর সেটা যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ সেটাও জানান তিনি।