টাঙ্গাইলের সখীপুরে উজার হচ্ছে বন,টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিট কর্মকর্তা
টাঙ্গাইলের সখীপুরে শত শত একর বনের জমি উজার হয়ে যাচ্ছে । যে যেমন পারছেন তেমন করেই বনের গজারি গাছ কেটে বিক্রি এবং জমি দখল করে গড়ে তুলছেন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিলাসবহুল ভবন।
তবে জানা যায় ,এসব করতে দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তাদের দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর এতে করেই বনের জমি দখল বা গাছ কাটার অনুমতি মিলছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হতেয়া বিটের চতলবাইদ গ্রামের রশিদ ভূঁইয়ার চালাটি বনবিভাগের আওতাধীন অর্ধেকের বেশি গজারি গাছ কাটা শেষ। শ্রমিকরা গাছের পাতা ও গুঁড়ি সরানোর কাজ করছেন। পাশেই আব্দুল মজিদ মিয়া দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে গাছ কাটা বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা।
স্থানীয়রা জানান, এই চালাটি আব্দুল মজিদ ও তার তিন ভাইয়ের। তারা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গা ভোগ দখল করে রেখেছেন। বন বিভাগ থেকে কর্মকর্তারা আসলে এর আগেও তারা পর্যাপ্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এদিকে একই উপজেলার বাঁশতৈল রেঞ্জের পাথরঘাটা বিটের তক্তারচালা বাজার থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে রাজনীতির মোড় এলাকায় বনের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে পোল্ট্রি খামার, সিমেন্টের খুঁটি তৈরির কারখানা, দোকানপাট ও এক তলা পাকা ভবন।
তক্তারচালা বাজার থেকে কামালিয়া চালা যাওয়ার পথে বনের জমি দখল করে সিমেন্টের খুঁটি তৈরির কারখানা, ফার্নিচার ও একটি ছাপড়া ঘর দিয়ে বনের প্রায় অর্ধ শতাংশ জমি দখল করেছেন স্থানীয় কদম আলী।
এদিকে ৩৭২৬ নম্বর দাগের বনের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছেন স্থানীয় রমজান আলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, এই জমিগুলো মূলত ৩৭২৬ ও ৩৮০২ নম্বর দাগের বন বিভাগের জমি। এক সময় এখানে বন কর্মকর্তারা বনের গাছের চারা লাগাতো। বিভিন্ন সময় বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ধীরে ধীরে পাকা বাড়ি, পোল্ট্রি খামারের ঘর, ফার্নিচারের দোকান নির্মাণ করা হয়। ফরেস্টাররা মামলা দেওয়ার ভয় দেখালেও যেকোনো কারণেই হোক মামলা দেয় না। এই সুযোগেই বন উজার করে নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে তুলছেন প্রভাবশালী মহল।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহিরুল হক বলেন, যারা বনের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন সেই জমিগুলো উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসব জমি দখলে কোনো বিট কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।