টাঙ্গাইলে এক লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ৬ লাখ বিদ্যুৎ বিল মওকুফ
আধুনিকতার ছোঁয়ায় এগিয়ে চলছে দেশ। সেই সুবাদে দুর্নীতিও সুবিধা নিচ্ছে আধুনিকতা থেকে। নব্য গড়ে উঠা সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা কয়েক যুগ থেকে পরিত্যক্ত কোনো সরকারি সম্পত্ত্বি সবখানেই দুর্নীতির জয়জয়কার। তারই নমুনা আমাদের টাঙ্গাইলে -----
প্রায় ৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায়। চাঞ্চল্যকর এ অনিয়ম হয়েছে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের গ্রাহক বিলে। এ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহম্মেদকে ঘুষ দিয়ে এভাবেই নিজ বাসভবনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মাফ করিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের ভবন মালিক তাশফিক আলমের বিরুদ্ধে।
এত বড় অনিয়মে অবলম্বন করা হয়েছে ভবনের সচল মিটার নষ্ট দেখিয়ে ও নতুন মিটার স্থাপন করার মতো অভিনব কৌশল। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহম্মেদের বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রাহকদের আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিটার নষ্ট দেখিয়ে গড় বিলে হয়রানি করাসহ অসামঞ্জস্য বিদ্যুৎ বিল বানানোর অভিযোগ। যোগদানের শুরু থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী এমন অনিয়মে লিপ্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রটি জানায়, ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রকৌশলী শামীম আহম্মেদ। এই দফতরের অধীনে রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক।
আরো জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর সংযোগ ব্যবহার করছেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের থানাপাড়া মেইন রোডের ১১ তলা শামছুদ্দোহা-রিজিয়া ভবনের মালিক তাশফিক আলম। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ওই ভবনের সামনের অংশে ৬টি ফ্লোর ভাড়া নেয় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড। এ সময় মেডিনোভার জন্য ভবনে একটি বাণিজ্যিক মিটার স্থাপন করা হয়। বাকি ফ্লোরগুলোতে স্থাপন করা হয় আবাসিক মিটার।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাশফিক আলমের মালিকানাধীন ভবনের আবাসিক অংশে মিটারে রিডিং আসে ৫৯২৯২.৯৩ ইউনিট। ১০ টাকা দরে যার বিল হয় ৫ লাখ ৯২ হাজার ৯২৯.৩ টাকা। তবে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঐ মিটারের ১৪৩৬৯ ইউনিটের বিল বাবদ আদায় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ২০৪ টাকা।
২০১২ সাল থেকে ঐ ভবনে ব্যবহৃত একক মিটারটি ২০১৭ সালের অক্টোবরে চাইল্ড মিটারে স্থানান্তরিত হয়। বিষয়টি জেনেই ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের বিশাল অংকের টাকা আত্মসাত করতে মিটারটি নষ্ট দেখিয়ে নতুন মিটার স্থাপনের কৌশল অবলম্বন করেন নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহম্মেদ। ফলে গায়েব হয়ে যায় ৪৪ হাজার ৯২৩ ইউনিট বিদ্যুতের ৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৩০ টাকা বিল।