টাকা দিয়ে গ্রেনাডার নাগরিক হয়েছিলেন পি কে হালদার
নিজের পৈত্রিক নামটা পর্যন্ত বদলে ফেলেছেন প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার। ভারতে তিনি শিবশঙ্কর হালদার নামে পরিচয়পত্রও বের করেছেন। শুধু কি তাই? এখন জানা গেল, বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র গ্রেনাডার নাগরিকত্ব নিয়েছেন পি কে হালদার। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র এ খবর জানিয়েছে।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। এদেশে তার বিরুদ্ধে ততদিনে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগ। গত শনিবার তাকে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি গ্রেপ্তার করে। প্রথম দফা তিন দিনের রিমান্ডের পর মঙ্গলবার আবার ১০ দিনের রিমান্ডে তাকে পেয়েছে ইডি।
আর তাদের সূত্র থেকেই জানা গেল, পি কে হালদারের গ্রেনাডার পাসপোর্ট আছে। এই পাসপোর্ট তিনি বাংলাদেশে থাকতেই নিয়েছেন না ভারতে যাওয়ার পর নিয়েছেন তা জানার চেষ্টা চলছে। তাকে এই পাসপোর্ট নিতে কারা সাহায্য করেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পি কে হালদার একা গ্রেনাডার নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন নাকি পরিবারের আর কেউ তার সঙ্গে তা নিয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। আরো কিছু তথ্য জানতে চান গোয়েন্দারা। এই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে কতো টাকা কোন খাতে পি কে হালদার বিনিয়োগ করেছিলেন সেটিও জানার চেষ্টা চলছে।
গ্রেনাডা দেশের উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণে টাকা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রদান করে থাকে। ২০১৭ সালের জুন মাসে দেশটির সংসদে বিনিয়োগের ভিত্তিতে ভিন্ন দেশের নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইনটি পাস হয়। গ্রেনাডার পাসপোর্টে চীন, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৪২টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ আছে। তাদের এই পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের ই২ ভিসা সহজেই পাওয়া যায়।