স্বাধীনতার পর প্রথমবার ঋণ খেলাপি হলো শ্রীলঙ্কা
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর এই প্রথম ঋণ খেলাপির খাতায় নাম লেখাল শ্রীলঙ্কা। নিজেদের ইতিহাসের করুণতম অর্থনৈতিক সংকটে ভূগতে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রটি অতিরিক্ত সময়েও ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, তারা ঋণ খেলাপির একটা অবস্থায় আছে এখন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ঋণের সুদ বাবদ ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার কিস্তি শোধ করার ছিল শ্রীলঙ্কার। এজন্য তারা অতিরিক্ত সময় পেয়েছিল। বুধবার সেই সময় শেষ হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার।
বৃহস্পতিবারের শেষভাগে বিশ্বের অন্যতম বড় দুটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থাও এই কথা ঘোষণা করে যে শ্রীলঙ্কা ঋণ খেলাপি হয়েছে।
কোনো সরকার তার ঋণদাতাদের কাছে ঋণ বা এর কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়। এতে করে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ওই দেশ তখন আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। দেশের নাগরিকদেরও সরকারের ওপর আস্থা কমে।
গত এপ্রিল থেকেই প্রচণ্ড রকমের অর্থনৈতিক সংকটে ভূগছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভ তলানির দিকে। এখন জ্বালানী, খাদ্য, চিকিৎসা থেকে সবখাতেই ভূগছে তারা।
সরকারের বিরুদ্ধে চরম অনাস্থা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ এর বেশি মানুষ।
বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন। এরপর রনিল বিক্রমাসিংহেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী করা হয়। বিক্রমাসিংহে বলেছেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আগে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।