সুনামগঞ্জের হাওড়ের বাঁধ ভাঙছে, ফসল কাটার পরামর্শ
নদনদীর পানি বেড়ে যাচ্ছে। চাপ বাড়ছে। সুনামগঞ্জের নানা এলাকার বাঁধ আছে হুমকিতে। এর মধ্যে জেলার দিরাই উপজেলার হোরামন্দিরা হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
রোববার রাতে জগদল ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের পুবের বন্দের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধটি ভেঙে গেছে। সেটি দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় এলাকার অন্যান্য বাঁধও ভেঙে যেতে পারে। কারণ, রোববার রাতে পুরাতন সুরমা নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এই পানি দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিটি বাঁধই ঝুঁকিতে পড়েছে।
এখন এই সময়ে বাঁধ ভাঙলে প্রাকৃতিক কারণে তা সংস্কার করার কোনো সুযোগ পাওয়া যাবে না। বাঁধের পাশে কোনো মাটি নেই। শ্রমিকও পাওয়া যাবে না। আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো মাটি ও বস্তা ফেলে রক্ষার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাতে আর কতক্ষণ!
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওড়ের ফসলরক্ষা বাঁধ রক্ষা করতে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের সাথে পেরে ওঠা যাচ্ছে না। বাঁধ পাহাড়ি ঢলে ডুবে থাকায় ধস নামছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে আবার কোথাও বাঁধ উপচে পড়া পানিতে ফসল ডুবে যাচ্ছে।
এই মাসের শুরুতে তাহিরপুর উপজেলার নজরখালি বাঁধ ভেঙে ২৫ হক্টর জমির ধান তলিয়ে গিয়েছিল। এখন উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন গোলাবাড়ি ক্যাম্পের পাশের আপরমারা বাঁধ উপচে বর্ধিত গুরমার হাওরে পানি ঢুকে পড়েছে। রোববার গুরমার হাওরের ২৭ নম্বর বাঁধটিও ভেঙে গেছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে হোরামন্দিরা হাওরে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে বাঁধ ভাঙলেও সব ফসল নষ্ট হবে না।
তবে দেরী না করে কৃষকদের জন্য এখনই ধান কেটে ফেলা মঙ্গলজনক হবে বলে জানানো হয়েছে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে।