শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কায় ফের জরুরি অবস্থা জারি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 07 মে 2022, 11:24 দুপুর • 700 বার পঠিত
শ্রীলঙ্কায় ফের জরুরি অবস্থা জারি

শুক্রবার সরকারবিরোধী ধর্মঘটে শ্রীলঙ্কা একরকম অচল হয়ে পড়ার পর দেশটিতে ফের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এ নিয়ে ৫ সপ্তাহের মধ্যে দেশে দু’বার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন। 

প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পক্ষ থেকে শুক্রবার তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, জনসাধারণের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কারণ, ধর্মঘটের কারণে দোকানপাট, ব্যবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।  

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এই জরুরি অবস্থা কার্যকর হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও অনেক সাধারণ মানুষ রাজধানী কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে যাওয়ার প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। তারা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া বিপক্ষে স্লোগান দেন। এমনকি অন্তর্বাসে ‘বাড়ি যাও গোটা’ স্লোগান লিখে ব্যারিকেডের ওপর তা ঝুলিয়ে দেয়।

শুক্রবার ধর্মঘটে যোগ দেন সরকারি থেকে বেসরকারি লোকজন। স্কুল, কলেজ বন্ধ ছিল। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেনি। বাস ও ট্রেনের চালকরাও ধর্মঘটে যাওয়ায় বেশিরভাগে গণপরিবহন চলেনি। স্বাস্থ্যকর্মীরাও এই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। 

কলম্বোতে আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করতে গেলে তাদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় দুই পক্ষের অনেকে আহত হন। 

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এত বড় অর্থনৈতিক সংকটে শ্রীলঙ্কা কখনো পড়েনি। তাদের বৈদেশিক রিজার্ভ তলানির দিকে। আমদানির ক্ষমতা হারিয়েছে রাষ্ট্র। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসা খাতেও সংকট শুরু হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট অনেক দিন হলো। সব মিলিয়ে দেশটির মানুষের জীবন এখন বড় কষ্টের। সরকার কিছুই সামাল দিতে পারছে না। 

প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার বিপক্ষে বিক্ষোভ অনেক দিন ধরে চলছে। তবু এই সংকটের মধ্যে নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি টিকিয়ে রাখছেন। বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর দিকে হাত পেতে দেশের সমস্যা দূর করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। খুব একটা সফল হতে পারছেন না। 

এমন পরিস্থিতিতেও গোটাবায়া পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছেন। অবশ্য বিরোধীদল আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায়।