শ্রীলঙ্কায় ৫ মুত্যুর পর কলম্বো এখন শান্ত
কলম্বোর পথঘাট আজ মঙ্গলবার শান্ত। সোমবার বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল রাজধানী কলম্বো ও সারা দেশজুড়ে। তাতে নিহত হয়েছেন ৫ জন। আহত হয়েছেন ২০০ এর বেশি। জ্বলে ওঠা বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকেসেকে করতে হয়েছে পদত্যাগ। খবর বার্তাসংস্থা রয়টার্সের।
দ্বীপরাষ্ট্রটি ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকট কাটাচ্ছে। মানুষ আর পেরে উঠছে না। সোমবার আন্দোলনকারীরা জরুরি অবস্থা ও কারফিউ ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে জ্বালাও-পোড়াও মানসিকতা এসে গেছে। সরকারি কর্তাদের বাড়িতে আক্রমণ করেছে তারা। রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী কিংবা আইনপ্রণেতারা তাদের আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছেন। রাজনীতিবিদদের ছেড়ে কথা বলেননি।
পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের কুরুনেগালার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রীর বাড়িও আগুনে জ্বলতে দেখো গেছে। রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন। একজন তো দুজনকে গুলি করেছিলেন। একজন নিহত হয়েছেন। গুলি করা সাংসদও নিহত হয়েছেন।
‘পরিস্থিতি এখন অনেকটা শান্ত।’ পুলিশের মুখপাত্র নিহাল থালদুয়া জানিয়েছেন, ‘এখনো অবশ্য কোথাও কোথাও বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।’ এর সঙ্গে তিনি আরো জানান, দেশজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় চলা সংঘর্ষে ৫ জন মারা গেছেন। আর আহত হয়েছেন ২০০ এর বেশি মানুষ।
তার ভাষ্য, এই পরিস্থিতিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আর যে ৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে।
বিক্ষোভকারীরা গতকাল প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছেন। পুলিশ তাদের ওপর জলকামান ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেভ করে। সংঘর্ষ বেধেছিল দুই পক্ষে। এক পক্ষে সরকারবিরোধী সাধারণ বিক্ষোভকারীরা। অন্যপক্ষে ছিল প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকরা। এই সমর্থকদের অনেকের হাতে ছিল রড এবং নানাকিছু। তারা বিক্ষোভকারীদের পিটিয়েছে। সেই সঙ্গে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তাদের তাবুতে।
এপ্রিল থেকে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কাছে ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা নিজেকে ‘অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া’ ঘোষণা করে। দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি কখনও এমন চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েনি।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক ঋণ এবং সুদ মেটাতে চলতি বছরের মধ্যে অন্তত ৬৯০ কোটি ডলার (প্রায় ৫২,৪০০ কোটি টাকা) ব্যয় করার কথা শ্রীলঙ্কার। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে জ্বালানি, কৃষিক্ষেত্রে সারের মতো একাধিক পণ্যের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাসের পর মাস এই অবস্থার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করে শ্রীলঙ্কার আমজনতা। ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আন্দোলনে সামিল হয় কলকারখানায় লক্ষ লক্ষ কর্মী, গণপরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও।