শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে
অর্থনৈতিক সংকটে টালমাটাল শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের মিডিয়া বিভাগ থেকে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় ৭৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ আইনপ্রণেতা রনিল শপথ নেন।
মহিন্দা রাজাপাকসের স্থলাভিষিক্ত হলেন রনিল। গত সোমবার শ্রীলঙ্কায় সহিংস জনবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে মাহিন্দা পদত্যাগ করেন।
বুধবার গোটাবায়ার সঙ্গে রনিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাকে প্রধানমন্ত্রী করার খবর আসে। ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা রনিল এর আগে চারবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেষবার ২০১৮ সালে তখনকার প্রেসিডেন্ট মাইথরিপালা সিরিসেনা রনিলকে বরখাস্ত করেছিলেন। এর দুই মাস পরই অবশ্য সিরিসেনা আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কায় রনিলের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাই তাকে এই সংকটময় সময়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও রনিলের ওপর আস্থা আছে।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর শ্রীলঙ্কা এখন দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ সবকিছুর দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎখাতের বাজে অবস্থা। চিকিৎসা খাতেরও একই হাল।
এই পরিস্থিতিতে রোববার ধর্মঘটে দেশটি অচল হয়ে পড়ে। এরপর সোমবার সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়, আহত হয় ২০০ এর বেশি মানুষ।
এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের বড় ভাই। কিন্তু বিক্ষোভের মুখে মাহিন্দা পদত্যাগ করলেও তাদের পৈতৃক বাড়ি পোড়ানো হয়। সরকারি দলের কয়েকজন রাজনীতিবিদ বিক্ষোভকারীদের হাতে প্রহৃত হন। একজন সাংসদ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পড়ে গুলি করে একজনকে মেরে ফেলার পর আত্মহত্যা করেন।