সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা দুঃখজনক
শনিবার রাজধানীর মালিবাগের স্কাই সিটি হোটেলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোটের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, "আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। মতভিন্নতা থাকবে, তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা করব। এমন কিছু বলা বা করা থেকে বিরত থাকব যাতে স্বৈরাচার বা তার অনুসারীরা আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ না পায়।"
১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় তারেক রহমান আন্দোলনে সহকর্মী-আপনজন হারানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, "যে ঐক্য নিয়ে আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম, সেই ঐক্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে ঐক্য বজায় রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।"
আড়াই বছর আগে বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, "দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি যে সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। গণতন্ত্র বলতে সাধারণ মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগকেই বোঝে। কেউ কেউ বলছেন, সংস্কার শেষ হলে নির্বাচন হবে। কিন্তু সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার প্রয়োজন, যা সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ ও গণতন্ত্র—এই মৌলিক বিষয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ। এখানে বিভেদ থাকা উচিত নয়।"
১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও মুখপাত্র জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদার সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির সেলিমা রহমান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের ফারুক হাসান এবং জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) কাজী নাহিদ।
ইফতার মাহফিলে বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক, মাহাদি আমিন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান ও রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সারজিস আলম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ফারুক রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।