শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

সংসদে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাট ‘অন্তর্ঘাত’ কি না, তদন্তে কমিটি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 28 মার্চ 2026, 04:49 দুপুর • 113 বার পঠিত
সংসদে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাট ‘অন্তর্ঘাত’ কি না, তদন্তে কমিটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শব্দযন্ত্রে যে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল তা ‘অন্তর্ঘাত’ কি না তা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ‘সংসদ কমিটি’।

সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস নেতৃত্বাধীন এ কমিটিকে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, “এটার জন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি আগামী ৩ তারিখের মধ্যে আমাদের রিপোর্ট পেশ করবে।”

এদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের লেভেল ২ এর কেবিনেট কক্ষে সংসদ কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন, সাউন্ড সিস্টেম, চিকিৎসা সুবিধা এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সংসদ কমিটির সদস্যরা হলেন রাকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, কায়ছার আহমদ, শহীদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সাইফুল আলম ও আবুল হাসনাত।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাটের কারণে কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরদিনের বৈঠকেও হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে চিফ হুইপ মনি বলেন, “না, ওটা না... হ্যাঁ, মানে রিয়ালি এখানে একটা স্যাবোটাজ হয়েছে বলে মনে করি আমরা, ধারণা করি।”

তিনি বলেন, “বিষয়টি শুধু কারিগরি ত্রুটি কি না তা দেখতে বিশেষজ্ঞ মতামতও নেওয়া হচ্ছে। আর এখানে অ্যাকচুয়ালি সাউন্ড সিস্টেমের যে প্রবলেম, তার জন্য এক্সপার্ট লোকরে আমরা ইনভাইট করেছি, সেটা হলো বুয়েট থেকে।

“যারা সাউন্ড বিশেষজ্ঞ, এরকম লোকজন দাওয়াত করেছি, যাতে আমাদের সাউন্ড সিস্টেমটা রিয়ালি প্রপারলি কাজ করে—তার ব্যবস্থার জন্য আমরা মনস্থির করেছি।”

তদন্ত কমিটি কোন কোন দিক দেখবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “দুটা জিনিস দেখব এখানে, একটা সিকিউরিটির আসপেক্ট আছে যে স্যাবোটাজ হয়েছে কি না, আর একটা হলো রিয়াল সাউন্ড সিস্টেমের প্রবলেমটা কী, তা রিজলভ করার পদ্ধতি বের করা।”

হেডফোন নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথাও জানান সংসদ কমিটির সভাপতি।

তিনি বলেন, “হেডফোনের ব্যাপারটা তো সকলেরই অভিযোগ। আমার নিজের অভিযোগ এত বড় এক ঢাউস হেডফোন মাথায় দিয়ে পার্লামেন্ট শোনা যায় না, মাথা গরম হয়ে যায়, কাজ করে না, বড় অসুবিধা।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা চেঞ্জ হবে ইনশাআল্লাহ।”

৫ অগাস্টের পরে সংস্কারের জন্য অনেক সময় পাওয়া গেলেও কেন সমস্যার সমাধান করা যায়নি, এমন প্রশ্নে চিফ হুইপ বলেন, সে সময় দেশে নির্বাচন হবে না, এমন একটি আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল। পরে আরও অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়।

মনির কথায়, “৫ অগাস্টের পরে আপনারা জানেন দেশে একটা আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল যে- আজ নির্বাচন হবে, কাল নির্বাচন হবে। যেদিন নির্বাচন হবে, সেদিনও আমাকে জিজ্ঞেস করে নির্বাচন কি ফাইনালি হবে?

“আমি বললাম যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন এ ব্যাপারে, গায়েবের মালিক তো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, আমরা বলতে পারবো না। তবে চেষ্টা করবো যাতে এটা টিকে।”

সংসদ কমিটির বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন ও অন্যান্য সুবিধার বিষয় গুরুত্ব পায়।

চিফ হুইপ বলেন, “আমাদের আজকে হাউস কমিটির মিটিং ছিল। মূলত মাননীয় সংসদ সদস্যদের জন্য কোথায় থাকবেন এবং কী কী ফ্যাসিলিটি এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসন দ্রুত প্রস্তুত করে ১০ এপ্রিলের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং পূর্ত বিভাগের আওতাধীন কাজ দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।

“১০ তারিখের মধ্যেই আমরা চেষ্টা করবো বরাদ্দ দেওয়ার জন্য।”

তবে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সবার সেখানে ওঠা বাধ্যতামূলক নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর সদস্যরা নিজেদের মতো করে বাসা গুছিয়ে নিতে পারবেন।

আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে ঢাকায় নিজের বাড়ি আছে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান নূরুল ইসলাম মনি।

তার ভাষ্যে, “তাদের কার কী আছে, না আছে—সেটা ইম্পোর্টেন্ট না, ইম্পোর্টেন্ট হলো তাদের কাছাকাছি রাখা।”

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ সদস্যদের কাজের সুবিধার জন্য তাদের কাছাকাছি রাখা হচ্ছে।

“কারণ অনেক সময় যানজটের কারণে তারা সময়মতো আসতে পারেন না, পার্লামেন্টের মূল টাইমটা লস হয়।”

সবাই সুযোগ পাবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের ধরেন মোর অর লেস সবাই পাবে।”

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ ও স্পিকার তাদের নিজ নিজ সরকারি বাসভবনে থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য সদস্যদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

এ কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে আগামী ৩০ মার্চ আবার হাউস কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ মনি।

চিকিৎসা সুবিধা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “চিকিৎসার বিষয়ে এখানে চিকিৎসা আমাদের অপ্রতুল।”

তিনি বলেন, সংসদ এলাকায় কার্ডিয়াক সাপোর্ট ব্যবস্থায় সমস্যা আছে, অ্যাম্বুলেন্সের সংকট রয়েছে, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স নেই। মরদেহ বহনের জন্য রেফ্রিজারেটেড ব্যবস্থা নেই।

“আমাদের যেমন কার্ডিয়াক সিস্টেমটার প্রবলেম আছে, আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের সমস্যা আছে, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স নেই, আমাদের এখানে ডেডবডি ক্যারি করার মতন রেফ্রিজারেটর ফ্রিজ যেটা মানে অ্যাম্বুলেন্সের তা নেই। তারপর কার্ডিয়াক সিস্টেমে মূলত অনেক কিছুই নেই। তারপর আমাদের কিছু রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট এরকম কিছু প্রবলেম আছে যেগুলো আগে ছিল, তারপর মধ্যখান থেকে কেউ অ্যাটেনশন দেয়নি।”

এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা তো এখন গণতন্ত্রে পা দিয়েছি। গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে চাই। আর আপনাদের সহযোগিতা চাই এজন্য পার্লামেন্টটা যেন রিয়াল কার্যকর হয়, পার্লামেন্টটা যেন রিয়ালি প্রাণবন্ত হয় এবং দেশের সকল সমস্যা যেন পার্লামেন্টে আসে এবং সমাধানও যেন এখান থেকে হয়।”

তিনি বলেন, “আমি মনে করি না এবার কোনো এমপি সাহেব অন্য কাউকে থাকার সুযোগ দেবেন; কারণ তারা অনেক ব্যস্ত থাকবেন পার্লামেন্ট নিয়ে।”

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সাইফুল আলম এবং মো. আবুল হাসনাত।