সমুদ্রের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে ‘অশনি’
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে দুর্বল হয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড় অশনি। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, গতি-প্রকৃতি দেখে অশনির বাংলাদেশের দিকে আসার সম্ভাবনা কম দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আবহাওয়া অফিসের যে পর্যবেক্ষণ তা থেকে জানা যাচ্ছে যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় থাকা প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনি এখন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের মুখে আছে। এর প্রভাবে অবশ্য বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ বৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ ২০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সাগর বিক্ষুব্ধ আছে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হয়েছে সিলেটেও। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অশনি হয়তো বাংলাদেশের দিকে মোড় নেবে। কিন্তু সমুদ্রের মধ্যেই সে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। তখন বাংলাদেশের দিকে এলেও এর ক্ষতি করার মতো শক্তি থাকবে না। মূলত বৃষ্টি ঝরিয়ে এটি বাংলাদেশের স্থলভাগে এসে শেষ হয়ে যাবে। ১৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টি থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড়সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় থাকা প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনি পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।