সিলেটে বন্যায় মানুষের কষ্টের শেষ নেই
সিলেট জেলা গত ৮ দিন ধরে বন্যার কবলে। অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ভারী বৃষ্টি আর উজানের ঢলে পরিস্থিতির আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। শেষ দুদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা।
বিভিন্ন উপজেলা তো বন্যায় আক্রান্তই। সিলেট নগরীর অবস্থাও সুবিধার না। কয়েকটি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে আছেন। বেশ কিছু আবাসিক এলাকার পথঘাট এখন পানির নিচে। ঘরবাড়ি-দোকানপাটে ঢুকে পড়েছে পানি। সব মিলে বেহাল অবস্থা। সিলেট নগর এখন পানির নগর।
নগরীর সুরমা নদীসংলগ্ন কালীঘাটের খেয়াঘাট এলাকায় বহু দোকানপাট। সেখানকার তিন শতাধিক দোকানপাটে পানি ঢুকেছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা কোনোভাবে পানি সামাল দিয়ে উঠতে পারছেন না।
গত ৮ দিন ধরে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। সিলেট নগরসহ জেলার ১৩টি উপজেলার হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বুধ ও বৃহস্পতিবারের ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে পাহাড়ি ঢল যোগ হয়ে বিপদ আরো বেড়েছে। তাতে আজ শুক্রবার সকাল থেকে সিলেট জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এই বন্যায় সিলেট জেলার কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি।
অনেকের ঘরের মজুত করা খাবার শেষ হয়ে গেছে। কারো হয়তো খাবারের মজুত ছিল না। তার জন্য অবস্থা আরো কঠিন। অনেকে ঘরের ভেতর পানি থেকে বাঁচতে মাচা বানিয়ে পরিবার নিয়ে সেখানে থাকছেন। বন্যাদুর্গত মানুষ ঠিকঠাক ত্রাণ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ আসছে।
শুধু খাবারের সংকট নয়, বন্যাক্রান্তরাও বিশুদ্ধ পানির সংকটেও পড়েছেন বলে জানা গেছে। নতুন পরিস্থিতিতে তাই অনেকে বৃষ্টির পানি জমাচ্ছেন। সেই পানি দিয়ে চাহিদা মেটাচ্ছেন।
ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির অবস্থা্ নাকাল। সেখানে গত ৮ দিনে ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে নেমে আসা ঢলেই সিলেট নগর ও এর জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
সিলেটের মানুষের মনে আছে ২০০৪ সালের বন্যা। তারপর পেরিয়ে গেছে ১৮ বছর বা দেড় যুগ। এই সময়ে এমন বন্যার কবলে সিলেট কখনো পড়েনি। সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ১৩টি উপজেলার ৮৫টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৩২৬টি। বর্তমানে ৯৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৪৯ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
জানা গেছে, সিলেট জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ৩৪টি বাঁধ ভেঙেছে। পানি ঢুকেছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে করে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আগে প্লাবিত হয়েছে। তারপর প্লাবিত হয়েছে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।
সুরমা নদীর পানি শুক্রবার সকাল ৯টায়ও কানাইঘাটে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া সিলেটে প্রবাহিত হচ্ছিল ৩৮ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জে ষোল সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় অবশ্য ওই তিন পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানাচ্ছে, সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলার নদীর পানি কিছু স্থানে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।