শিক্ষক নিয়োগ বাতিলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করলেন আপিল বিভাগ
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ৬,৫৩১ জন প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন।
সোমবার (৩ মার্চ) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আর বিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মুনতাসির আহমেদ।
এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ২৩ জুলাইয়ের নোটিফিকেশনের পরিপন্থি উল্লেখ করে ৩১ অক্টোবরের ফল বাতিলের নির্দেশ দেন। রায়ে বলা হয়, নতুন করে ২৩ জুলাইয়ের নোটিফিকেশন অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে ফল প্রকাশ করতে হবে। ওই নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ৯৩% মেধা, ৫% মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১% ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, এবং ১% প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের কোটা সংরক্ষিত ছিল।
২০২৩ সালের ১৪ জুন প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ৩১ অক্টোবর ৬,৫৩১ জনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। ১১ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগ আদেশ জারি করে এবং ২০ নভেম্বর নিয়োগপত্র ইস্যুর পরিকল্পনা ছিল।
নিয়োগ বঞ্চিত ১৫৩ জন প্রার্থী কোটা সংরক্ষণজনিত অসংগতির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ১৯ নভেম্বর নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন, যার ওপর ৬ ফেব্রুয়ারি রায় হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। ফলে ৬,৫৩১ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।