শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

শিক্ষার্থীদের কাছে মোদীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিরোধীদের

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 02 আগস্ট 2026, 10:12 দুপুর • 73 বার পঠিত
শিক্ষার্থীদের কাছে মোদীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিরোধীদের

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের ঘটনায় সৃষ্ট সংকটের দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দলগুলো। দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোদির ‘ক্ষমা করে দেওয়ার’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জর্জরিত পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্য সরকারের জবাবদিহি করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে না; বরং সরকারেরই তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, আন্দোলনের সময় তার এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তবুও তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে তাদের ক্ষমা করতে চান।

একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।মোদি আরও বলেন, সমাজে যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে, তা তিনি উপলব্ধি করেন।

তবে আন্দোলনে কিছু তরুণীর অশালীন ভাষা ব্যবহারকে তিনি ‘সাংস্কৃতিক ধাক্কা’ হিসেবে দেখছেন।মোদীর এই বক্তব্যের পর এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং বছরের পর বছর পরিশ্রমের পরও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার কথা বলেন—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রাহুলের দাবি, সরকার কখনো প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী কিংবা তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। তাই শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার পরিবর্তে সরকারেরই তাদের কাছে দায় স্বীকার করা উচিত।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি. চিদাম্বরমও প্রশ্ন তোলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহারকারী বিজেপি-সমর্থকদের প্রতিও কি একই ধরনের অবস্থান নেবেন প্রধানমন্ত্রী?

দলটির আরেক নেতা পবন খেরা বলেন, দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি প্রত্যাশা করছিল, সেখানে তিনি উল্টো শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ এতটাই গভীর যে শুধু ক্ষমা চাইলেই তা দূর হবে না। তাঁর মতে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়েছে।

শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, পাবলিক এক্সামিনেশনস (সংশোধনী) বিল পাস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদে এ বিষয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিতে সরকার প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবেদনশীল আচরণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলো বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, আন্দোলনের সময় মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দুঃখ প্রকাশ করে। সেখানে সে জানায়, অন্যদের প্রভাবে ওই স্লোগান দিয়েছিল এবং এটি তার ‘প্রথম ও শেষ ভুল’। সে আরও দাবি করে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সে নিজে প্রকাশ করেনি।

তবে কিশোরীর ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।